আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

Sujit Basu : সুজিত বসুর শুনানিতে আদালতে ধুন্ধুমার, ক্ষমা চাইলেন দুই আইনজীবীই !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর শুনানি ঘিরে বৃহস্পতিবার বিচারভবনে চরম উত্তেজনা ছড়াল। দুই পক্ষের আইনজীবীর তুমুল বাগ্‌-বিতণ্ডার পর শেষে একে অন্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। সওয়াল-জবাব শেষে সুজিতকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠাল ইডির বিশেষ আদালত।

এদিন বিচারভবনে ইডির বিশেষ আদালতে ভার্চুয়ালি সওয়াল করেন সুজিতের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা। ইডির কৌঁসুলি ধীরাজ ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, অনলাইনে সিদ্ধার্থের বক্তব্য স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল না এবং তাঁকে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে ধীরাজ বলেন, ‘বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। তা হলে এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। আমি এ ধরনের প্র্যাক্টিসে অভ্যস্ত নই।’ এরপর সিদ্ধার্থ ক্ষমা চেয়ে নেন। সওয়াল-জবাবের শেষে দুই আইনজীবীই করজোড়ে পরস্পরের কাছে ক্ষমা চান। ধীরাজ জানান, নেটওয়ার্কের সমস্যাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইডির দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায় তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, পুর নিয়োগে স্বচ্ছতা ছিল না এবং তাঁর মতামত নেওয়া হয়নি। থার্ড পার্টি আউটসোর্সিংয়ে তাঁর আপত্তি থাকলেও সব কাউন্সিলর ও সুজিতের সায়ে দুর্নীতি হয়েছে। ইডি আরও জানায়, এক ব্যবসায়ী সুজিতের পরিবারের দুটি সংস্থায় শেয়ার কিনতে ও লোন দিতে ৯০ লক্ষ টাকা খরচ করেন, অথচ অন্য এক ব্যবসায়ীর দাবি ওই শেয়ারের দাম অন্তত দু’কোটি টাকা। এই ফারাক দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছে ইডি। এছাড়া একই পরিবারের চারজন ও এক জমি মালিককে বেআইনি ভাবে পুরসভায় চাকরি দেওয়ার বদলে কোটি কোটি টাকার চারটি ফ্লোর দখলের অভিযোগও তুলেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ‘ঘনিষ্ঠ’ নিতাই দত্তকে দু’বার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন বলে জানায় ইডি। সুজিতকে জামিন দিলে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আদালতে জানান ইডির আইনজীবী ।

পাল্টা সুজিতের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা জামিনের আবেদন করে বলেন, সিবিআই এই মামলার তদন্ত করে চার্জশিট দিলেও সেখানে সুজিতের নাম নেই এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিবিআইয়ের তদন্ত শেষ হওয়ার পর ‘সিস্টার এজেন্সি’ ইডি কী ভাবে আগের সিদ্ধান্ত নাকচ করতে পারে। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক গ্রেপ্তারি বলে দাবি করেন তিনি। জবাবে ইডির আইনজীবী জানান, তদন্ত থেমে নেই। নতুন তথ্য হাতে এসেছে যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

দু’পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর বিচারক সুজিত বসুকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ইডি জানিয়েছে, নিতাই দত্ত ও সুজিতের বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *