রায়গঞ্জে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বচসা, উত্তেজনার মাঝে মৃত্যু ৮৫ বছরের বৃদ্ধার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, রায়গঞ্জ: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট মেনে আজ থেকেই শুরু হয়েছে ৮৫ ঊর্ধ্ব এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই কাজ শুরুর প্রথম দিনেই শোকের ছায়া উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানকে কেন্দ্র করে আধিকারিকদের সঙ্গে বচসা এবং সেই উত্তেজনার মাঝেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলো তনিজা বিবি (৮৫) নামে এক বৃদ্ধার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রায়গঞ্জের মারাইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিটি কাটিহার এলাকা।
সোমবার সকালে ভিটি কাটিহার গ্রামের বাসিন্দা তনিজা বিবির বাড়িতে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পৌঁছান স্থানীয় বিএলও অলোক সুর রায় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। নিয়ম অনুযায়ী, বৃদ্ধাকে নিজের ভোট নিজেকেই দিতে বলা হয়। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে বৃদ্ধা জানান, তাঁর হাত অকেজো, তাই তাঁর হয়ে পরিবারের অন্য কেউ ভোট দিয়ে দেবেন। বিএলও অলোকবাবু সাফ জানিয়ে দেন, নিয়ম অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটে অন্যের ভোট দেওয়ার কোনো সংস্থান নেই। বৃদ্ধাকে নিজের ভোট নিজেকেই দিতে হবে, প্রয়োজনে তিনি সময় নিতে পারেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই বিএলও-র সঙ্গে তনিজা বিবি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাদানুবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসীরা সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বচসা চলাকালীনই আচমকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তনিজা বিবি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁকে তড়িঘড়ি রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। বিএলও-র আচরণের কারণেই এই মৃত্যু— এই অভিযোগ তুলে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। বিএলও-কে ঘিরে চলে দফায় দফায় বিক্ষোভ, এমনকি পথ অবরোধও করা হয়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের মহকুমাশাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,“পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি অশান্তির খবর মিলেছে। একজন বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঠিক কী ঘটেছিল এবং কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।” নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই এমন ঘটনায় শোকের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিয়ম পালন করতে গিয়ে মানবিকতার অভাব ছিল কি না, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন।
