Rail : তিরুবনন্তপুরম-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসে বিধ্বংসী আগুন, পুড়ে ছাই দুটি এসি কোচ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :-সাত সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল রাজধানী এক্সপ্রেস। তিরুবনন্তপুরম থেকে দিল্লিগামী 12431 আপ রাজধানী এক্সপ্রেসে যাত্রাপথে হঠাৎই দাউদাউ করে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা ট্রেনে। হুড়োহুড়ি পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে। তবে গার্ড ও লোকো পাইলটের তৎপরতায় এবং রেলকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে বড়সড় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মধ্য রেলের কোটা ডিভিশনের অন্তর্গত লুনি এবং আলট রেলস্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায়। প্রাথমিকভাবে খবর মিলেছে, ট্রেনের বি-১ এসি থ্রি-টায়ার কোচে প্রথমে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। এরপর দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের বি-২ কোচেও। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। যাত্রীদের চিৎকারে রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
ট্রেনের অন-ডিউটি গার্ড ধোঁয়া দেখতে পেয়েই তৎক্ষণাৎ ওয়াকিটকিতে লোকো পাইলটকে সতর্ক করেন। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ব্রেক কষে মাঝপথেই ট্রেনটি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। রেলকর্মীরা দ্রুত বি-১ ও বি-২ কোচ থেকে যাত্রীদের নামাতে শুরু করেন। ওই দুটি কোচে প্রায় ১৩০ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে বি-১ কোচেই ছিলেন ৬৮ জন। প্রত্যেককে নিরাপদে অন্য কোচে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বি-১ এবং বি-২ কোচ দুটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। কোচের ভিতরের আসন, বাঙ্ক, জানলার কাচ, শৌচালয়, সবই পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও যাত্রীর মৃত্যু বা গুরুতর জখম হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কয়েকজন যাত্রী ধোঁয়ায় অসুস্থ বোধ করায় তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়েই কোটা থেকে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। রেলের উদ্ধারকারী দলও পৌঁছয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ততক্ষণে দুটি কোচের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে দিল্লি-মুম্বাই প্রধান রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোটা ডিভিশনের এই অংশ দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল করিডর। ফলে রাজধানী এক্সপ্রেসের পিছনে থাকা একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে। দিল্লি ও মুম্বাইগামী বহু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইন ক্লিয়ার করার কাজ চলছে। পুড়ে যাওয়া কোচ দুটি ট্রেন থেকে আলাদা করে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। কী কারণে আগুন লাগল তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। শর্ট সার্কিট না কি নাশকতা, সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। যাত্রীদের সুরক্ষায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে বলে জানিয়েছে রেল।
