‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব’, বোলপুর থেকে তৃণমূলকে শাহী হুঁশিয়ারি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বোলপুর: ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে তপ্ত বীরভূম। সোমবার বোলপুরের পল্লিমঙ্গল ক্লাবের মাঠ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে অবতীর্ণ হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্নীতি থেকে নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ থেকে সংস্কৃতি— একাধিক ইস্যুতে শাসকদলকে বিঁধে শাহর সাফ বার্তা, “আপনারা ইভিএমে পদ্মফুল খুঁজুন, আমরা তৃণমূলের গুন্ডাদের খুঁজে বের করব।”
দুর্নীতির দাওয়াই: ‘উল্টো করে ঝোলানো’
এদিন সভা থেকে নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি এবং আবাস যোজনার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কাটমানি এবং সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে যুক্তদের ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে’ সোজা করা হবে। তাঁর দাবি, জলজীবন মিশনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে শাসকদলের ‘গুন্ডারা’।
বদলার হুঁশিয়ারি ও ৫ মে-র ডেডলাইন
ময়ূরেশ্বরে বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে শাহ সরাসরি তৃণমূল কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:“২৩ তারিখ ঘরে বসে থাকুন। না হলে ৫ মে আপনাদের খুঁজে বের করে জেলে পাঠানো হবে।” বোমার জবাব ব্যালটে দেওয়ার জন্য বীরভূমের মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি।
নারী নিরাপত্তা ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
আর জি কর বা দুর্গাপুরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি এমন বাংলা গড়বে যেখানে রাত ১টার সময়ও মেয়েরা নির্ভয়ে স্কুটিতে বেরোতে পারবেন। পাশাপাশি, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার অঙ্গীকারও শোনা যায় তাঁর গলায়।
শান্তিনিকেতন ও বাংলা সংস্কৃতি
শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ঘর ভাঙার অভিযোগ তুলে শাহ বলেন, “তৃণমূল বাংলার সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারে না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, মোদী সরকারই শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এনে দিয়েছে এবং বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষার মর্যাদা দিয়েছে।
পাল্টা সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ঠিক যে সময় বোলপুরে সভা করছেন অমিত শাহ, তার কিছু দূরে সিউড়িতে সভা করছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহের আক্রমণের পাল্টা দিয়ে মমতা ফের কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান:কেন্দ্র টাকা আটকে রাখা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে আবাস যোজনা ও জলজীবন মিশনের কাজ সচল রেখেছে।
বাংলার মানুষের প্রাপ্য টাকা না দিয়ে কেন্দ্র বিভাজনের রাজনীতি করছে। ভোটের মুখে দুই হেভিওয়েটের এই বাক্যযুদ্ধে বীরভূমের মাটি এখন আক্ষরিক অর্থেই রাজনৈতিক কুরুক্ষেত্র। একদিকে শাহর ‘জেলে ঢোকানোর’ হুমকি, অন্যদিকে মমতার ‘বঞ্চনার’ জবাব— সব মিলিয়ে বাংলার ভোটের পারদ এখন তুঙ্গে।
