ভুটান সীমান্তে বক্সা পাহাড়ে ৩ বুথ ! নেই রাস্তা-নেটওয়ার্ক, ট্রেকিংই ভরসা ভোটকর্মীদের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- ভারত-ভুটান সীমান্তের কালচিনি বিধানসভার অন্তর্গত বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বক্সা পাহাড় ৷ এখানেই রয়েছে দেশের এমন তিনটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র, যেখানে কোনও নেটওয়ার্ক নেই ৷ পৌঁছয় না গাড়ি ৷ কারণ রাস্তা বলে সেখানে কিছু নেই ৷ ভোট করাতে যাওয়ার জন্য ট্রেকিং-ই ভরসা কর্মীদের ৷
রাত পোহালেই প্রথম দফার ভোট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮০০ ফুট উঁচুতে পাহাড় চূড়ায় বুথ। নেটওয়ার্ক নেই। ফোন নেই। তাই ভরসাএকমাত্র স্যাটেলাইট ফোন। আর এই স্যাটেলাইট ফোন হাতে নিয়ে বক্সা পাহাড়ের দুর্গম বুথে রওনা দিলেন ভোট কর্মীরা।
আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি বিধান সভায় প্রায় ২৮০০ ফুট উচুতে বক্সা পাহাড়ের ১১ গ্রামের জন্য হচ্ছে তিন বুথ। আদমা, চুনাভাটি ও বক্সা। বক্সা এলাকার সাত গ্রামের ভোটারদের জন্য বক্সা দুয়ার বিএফপি স্কুলে বুথ তৈরি হচ্ছে। এখানে ভোট দেবেন সদর বাজার, ডারাগাওঁ , লেপচাখা, তাসিগাওঁ , লালবাংলো, খাট্টা লাইন ও ওচলুং গ্রামের ভোটাররা। আদমা, লামনা ও সেওগাঁও পাহাড়ি তিন গ্রামের জন্য বুথ হচ্ছে আদমা ফরেস্ট বস্তি প্রাইমারি স্কুলে ভোট দেবেন বক্সা পাহাড়ের প্রায় ১১০০০ ভোটার । এছাড়া চুনাভাটি গ্রামের ভোটারের জন্য চুনাভাটি ফিনিশ মিশন প্রাইমারি স্কুলে বুথ করা হয়েছে।বক্সা পাহাড়ের সদর বাজার, ডারাগাও, তাসিগাও, আদমা, লেপচাখা গ্রামের ভোটাররা এই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দেবেন ।
ভোটকর্মীদের পোলিং বুথে যেতে ট্রেকিং করে যেতে হবে । অন্য কোনও উপায় নেই । আলিপুরদুয়ার থেকে সান্তলাবাড়ি পর্যন্ত গাড়িতে আসতে পারবেন ভোট কর্মীরা । তবে সেখান থেকে পাহাড়ি এবড়ো-খেবড়ো খাড়াই রাস্তা ধরে ট্রেকিং করে তাঁদের পৌঁছতে হবে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ।
বক্সা পাহাড়ের জিরো পয়েন্ট থেকে পায়ে হেটে যাওয়া ছাড়া ওই তিনটি বুথে পৌঁছানোর আর অন্য কোনও উপায় নেই। সেখানে ভোটের সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার জন্য পাহাড়ি কুলি নেবে নির্বাচন দফতর।
প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে কড়া নজরদারিতে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ছয়টি জেলা– মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর দিনাজপুর অতি স্পর্শকাতর ও অতি সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত ১৫ বছরের নির্বাচনী ইতিহাস খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। লক্ষ্য একটাই, রাজ্যে সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই কারণে এবার কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কমিশন।
