মোদি সরকারের ১২ বছর: ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর বাংলায় মেগা জনসংযোগ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি:- কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। রাজ্যে এখন গেরুয়া শিবির ক্ষমতায়, তাই এই উদযাপন হতে চলেছে আরও ধুমধাম করে। এনডিএ সরকারের ১২ বছরের সাফল্যকে হাতিয়ার করে আমজনতার সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ময়দানে নামানো হচ্ছে দলের সমস্ত সাংসদ ও বিধায়কদের। আগামী ৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত চলবে এই মেগা কর্মসূচি।
এই বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচির মূল কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন সাংসদ তথা দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। ইতিমিধ্যেই দলের তরফে প্রতিটি জেলায় ‘বিশ্বাসের, উন্নয়নের ও জনকল্যাণের বারো বছর’ শীর্ষক সার্কুলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সাংসদ-বিধায়কদের জন্য কড়া নির্দেশিকা:
-
জনসংযোগ ও প্রবাস: প্রত্যেক সাংসদকে তাঁদের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত প্রতিটি বিধানসভায় অন্তত ১ দিন এবং প্রত্যেক বিধায়ককে প্রতিটি মণ্ডলে ১ দিন করে প্রবাস (রাত্রিবাস ও জনসংযোগ) করতে হবে।
-
বিশিষ্টজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ: প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় অন্তত ৫০০ জন গুরুত্বপূর্ণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।
-
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পালন: দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় বিলাসবহুল গাড়ির কনভয় এড়িয়ে চলতে হবে। পরিবর্তে কারপুলিং (গাড়ি ভাগাভাগি) বা গণপরিবহণ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে স্বদেশি ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
কর্মসূচির মূল সময়সূচি ও রূপরেখা:
-
বিশেষ জনসংযোগ অভিযান (৮ জুন – ১৪ জুন): কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংসদ-বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রী ও জাতীয়-প্রদেশ পদাধিকারীদের নেতৃত্বে এই নিবিড় জনসংযোগ অভিযান চলবে। এর অধীনে বৃক্ষরোপণ, স্বচ্ছতা অভিযান, ‘প্রগতি পথ যাত্রা’ (উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শন) এবং জেলাস্তরে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।
-
সাফল্যের প্রদর্শনী: প্রতিটি জেলায় মোদি সরকারের ১২ বছরের সাফল্য নিয়ে ৩ দিনের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এই কর্মসূচির কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্বে থাকছেন অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও তনুজা চক্রবর্তী।
-
জনকল্যাণ শিবির (১২ জুন – ২০ জুন): রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলির জন্য ৩ দিনের রেজিস্ট্রেশন শিবিরের আয়োজন করা হবে। রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এই শিবির চললেও, যোগ্য উপভোক্তাদের শিবিরে নিয়ে আসার মূল দায়িত্ব সামলাবে বিজেপি সংগঠন। এই শিবিরের দায়িত্বে রয়েছেন শাখারভ সরকার ও অভিজিৎ বিশ্বাস।
-
অন্যান্য কর্মসূচি: এছাড়া প্রতিটি জেলায় বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের নিয়ে ‘প্রবুদ্ধ সম্মেলন’ আয়োজন করা হবে। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসও বড় আকারে পালন করা হবে।
নেতৃত্বে শমীক ভট্টাচার্য: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম এত বড় কর্মসূচি। তাই জেলাস্তরে এই রূপরেখা সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মোদি জমানার সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকে আমজনতার দুয়ারে পৌঁছে দেওয়াই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য।
