আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নাভারত

চাকরি থাকবে না যাবে? ৩২ হাজার শিক্ষকের কপাল ঝুলছে সুপ্রিম কোর্টে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:-রাজ্যের ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির ভবিষ্যৎ এবার সুপ্রিম কোর্টের হাতে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ‘যোগ্য ও বঞ্চিত’ প্রার্থীদের দায়ের করা মামলা সোমবার গ্রহণ করল শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ নোটিস জারি করে সব পক্ষের জবাব তলব করেছে। অগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে পরবর্তী শুনানি।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, এখনই কারও চাকরি বাতিল হচ্ছে না। তবে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘আমাদের সন্তানদের যাঁরা শিক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের যোগ্যতামান জানা প্রয়োজন।’ ন্যূনতম যোগ্যতামান ছাড়া কীভাবে নিয়োগ হলো, সেই প্রশ্নও তোলে আদালত। বেঞ্চ জানতে চায়, এই ৩২ হাজার শিক্ষক টেট উত্তীর্ণ কি না। আইনজীবীরা জানান, সকলেই টেট পাশ।২০২৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয়। পরে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় খারিজ করে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যান মামলাকারীরা। সওয়াল করতে গিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ‘রাজ্যের প্রাইমারি নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে।’ পুরো প্যানেল বাতিলের দাবিও তোলেন তিনি।

একই দিনে অন্য বেঞ্চে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ সংক্রান্ত আদালত অবমাননার মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও স্থগিতাদেশ জারি করা হচ্ছে না। আদালত অবমাননার মামলাটিও খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।

একদিকে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভাগ্য ঝুলে রইল অগস্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে ২৬ হাজার এসএসসি নিয়োগে আপাতত স্বস্তি। দুই মামলাতেই নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। চাকরি থাকবে না যাবে, উত্তর দেবে সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *