যৌন নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ,বিপিও সেন্টার বন্ধ করল টিসিএস
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নাসিকঃ ভারতের অন্যতম বৃহৎ তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস-কে ঘিরে নজিরবিহীন বিতর্ক। যৌন হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ সংস্থার মহারাষ্ট্রের নাসিক কেন্দ্র। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে নাসিকের বিপিও বিভাগের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের আপাতত বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড়: কী ঘটেছিল নাসিক কেন্দ্রে?
সংস্থার নাসিক কেন্দ্রের অন্তত ৯ জন মহিলা কর্মী বেশ কয়েকজন সিনিয়র আধিকারিক ও কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে এই নির্যাতন চলছে। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ওই মহিলা কর্মীদের দাবি, তাঁদের নিয়মিত যৌন ও মানসিক হেনস্তা করা হতো। বাধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজন দাবি করেছেন, “কোম্পানির কয়েকজন মুসলিম কর্মী ও কর্মকর্তা ভালো চাকরি ও বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করত। তাঁদের নমাজ পড়তে ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হতো।” এমনকি এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী জানিয়েছেন, হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে বিয়ে ও ধর্মান্তর ঘটানোর জন্য টাকার প্রলোভনও দেওয়া হতো।
পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার
নাসিক পুলিশ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। শ্লীলতাহানি ও ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগে টিসিএসের উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন:
আসিফ আনসারি
শফি শেখ
শাহরুখ কুরেশি
রাজা মেমন
তৌসিফ আত্তার
অশ্বিন চাইনানি
কাঠগড়ায় এইচআর বিভাগ
নির্যাতিতা কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংস্থার মানবসম্পদ বা এইচআর বিভাগের কাছে এই বিষয়ে নালিশ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে ২০২২ সাল থেকে ২০২৪-এর মার্চ পর্যন্ত এই নির্যাতন অবাধে চলেছে।
টিসিএসের অবস্থান
এই ঘটনায় বিশ্বখ্যাত এই তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। আপাতত নাসিক কেন্দ্রের কাজ বন্ধ রেখে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এই ঘটনা কেবল কর্পোরেট জগতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি, বরং এর সঙ্গে যুক্ত সামাজিক ও ধর্মীয় অভিযোগগুলো মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতেও ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
