ভোট পরবর্তী হিংসার বলি তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,পুরুলিয়া: রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার বলি হলেন আরও এক রাজনৈতিক কর্মী। দীর্ঘ ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর বুধবার রাতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হল পুরুলিয়ার কাশীপুর ব্লকের বড়রা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি চিত্তরঞ্জন মণ্ডলের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলায় প্রথম দফার ভোট মিটেছিল গত ২৩ এপ্রিল। অভিযোগ, তার পরের দিন অর্থাৎ ২৪ এপ্রিল কাশীপুর থানার মনিপুর গ্রামের একটি হরি মন্দিরে বসে স্থানীয়রা আলোচনা করছিলেন যে, কোন বিধানসভায় কে জিততে পারে। সেই সময় সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল সমর্থকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, আলোচনা চলাকালীনই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তৃণমূল কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। সেই সময় বড়রা অঞ্চল সভাপতি চিত্তরঞ্জন মণ্ডলকে লক্ষ্য করে দুই বিজেপি কর্মী ভারী কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
চিকিৎসা ও মৃত্যু: মাথায় গুরুতর চোট থাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় চিত্তরঞ্জনবাবুকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে রেফার করে দেন। ওই রাতেই তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৫ এপ্রিল তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হলেও জ্ঞান ফেরেনি। বুধবার রাতে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক মহলে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। পুরুলিয়ার কাশীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্য তৃণমূলের সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “পুরুলিয়ার এই সংস্কৃতি ছিল না। গত ১৫ বছরে এমন কোনো ঘটনা এই জেলায় ঘটেনি। রাজনীতিতে হার-জিত থাকবেই, কিন্তু হিংসার কোনো জায়গা নেই। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা, আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। কাশীপুরের বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা দাবি করেছেন, “এই মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক, তবে এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। এটি একটি পারিবারিক বিবাদের জেরে ঘটেছিল।”
তদন্তের গতিপ্রকৃতি: ইতিমধ্যেই কাশীপুর থানায় এই ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মৃত অঞ্চল সভাপতির দেহের ফরেনসিক ময়নাতদন্ত করা হবে আসানসোলে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এটি রাজনৈতিক রেষারেষি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়েছে কি না, তা নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
