‘বায়োনিক আই’- এর মাধ্যমে দৃষ্টি ফিরবে দৃষ্টিহীনের ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কোলকাতা: বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ অন্ধ এবং স্বল্প দৃষ্টির সমস্যায় ভুগছেন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে, বিজ্ঞানীরা দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার নতুন উপায় খুঁজে বের করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এর মধ্যে একটি অঙ্গীকার হলো বায়োনিক আই ইমপ্লান্ট তৈরি করা। এই প্রযুক্তিটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ঠিক ততটাই কার্যকর হবে, যতটা শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ককলিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যকর।
দৃষ্টিহীনের দৃষ্টি ফেরাতে চক্ষু প্রতিস্থাপন করা হত এত দিন। তাতে ঝুঁকি যেমন বিস্তর, তেমনই ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল। এমন অস্ত্রোপচারের পরেও যে স্বচ্ছ দৃষ্টি ফিরে আসবে, তা না-ও হতে পারে। কিন্তু বায়োনিক আই সে ঝক্কি মেটাবে। চক্ষু প্রতিস্থাপনের বিকল্প উপায় হতে পারে একটি ছোট্ট ডিভাইস। চোখে বসিয়ে দিলে দৃষ্টিহীনও দৃষ্টি ফিরে পাবেন বলে দাবি।
মূল বৈশিষ্ট্য ও কার্যপদ্ধতি:
- প্রযুক্তি:এটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল এবং রেটিনার ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পরিবর্তে কাজ করে।
- কার্যপদ্ধতি:ক্যামেরাযুক্ত চশমা এবং ইমপ্লান্ট করা চিপের মাধ্যমে দৃশ্য ধারণ করে তা বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে এবং অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়।
- ব্যবহারকারী:রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা বা বয়সের কারণে হওয়া ম্যাকুলার ডিজেনারেশন রোগীদের জন্য এটি বেশি কার্যকর।
- সুবিধা: রোগীরা আলো, ছায়া, এবং বস্তুর আকৃতি বুঝতে সক্ষম হন, যা অন্ধত্ব দূরীকরণে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।
অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, আমেরিকার জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বায়োনিক আই নিয়ে গবেষণারত। ডিভাইসটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগও শুরু হয়েছে। দৃষ্টিহীনের চোখে বসিয়ে দেখা হচ্ছে, কতটা স্বচ্ছ দৃষ্টি ফিরছে বা আদৌ যন্ত্রটি দৃষ্টি ফেরাতে পারছে কি না।
২০১২ সালে বায়োনিক চোখের একটি প্রাথমিক সংস্করণের প্রথম প্রতিস্থাপনের খবর পাওয়া যায়। রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসার কারণে গুরুতর দৃষ্টিশক্তি হারানো রোগীটি জানান যে তিনি আলো দেখতে পেলেও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছিলেন না। প্রথম মডেলটি তৈরি করেছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি বায়োনিক ভিশন অস্ট্রেলিয়া। এরপর থেকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসার কারণে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের শরীরে নতুন মডেল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
