কামদুনির নির্যাতিতা পাবে এবার বিচার? আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের ক্ষমতা বদলের পর এবার কি তবে বিচার পেতে চলেছে বারাসতের কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার? আজ, বুধবার সকালে সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে সশরীরে হাজির হলেন কামদুনির মৃত ছাত্রীর মা ও ভাই। তাঁদের সাথে ছিলেন কামদুনি আন্দোলনের দুই পরিচিত মুখ— মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা লড়াইয়ে অবশেষে আশার আলো দেখছেন নির্যাতিতার পরিবার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন, “কামদুনির ঘটনার বিচার হবে।”
‘ফাইল খুলবে, রাজ্য থাকবে পরিবারের পাশে’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কামদুনি মামলাটি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় এবার রাজ্য সরকারের ভূমিকা সম্পূর্ণ ইতিবাচক থাকবে। তাঁর বক্তব্য:
আইনি সহযোগিতা: সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে এই মামলার কোনও বিরোধিতা করা হবে না। বরং রাজ্যের সরকারি আইনজীবীরা নির্যাতিতার পরিবারের হয়ে সওয়াল করবেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন।
পুনরায় তদন্তের ইঙ্গিত: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই কামদুনি কাণ্ডের ফাইল পুনরায় খোলার দাবি জোরালো হচ্ছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী কার্যত সেই দাবিতে সিলমোহর দিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন যে, কামদুনির ফাইল ফের খোলা হবে এবং নতুন করে তদন্তের পথে হাঁটবে রাজ্য।
ফিরে দেখা কামদুনি: তৃণমূল জমানার সেই ক্ষত
২০১৩ সালের জুন মাসে বারাসতের কামদুনিতে ২০ বছরের এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ এবং নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে।
মমতার সফর ও বিতর্ক: তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কামদুনিতে যান, তখন এলাকার মহিলারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ ওঠে, ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের ‘মাওবাদী’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতিবাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা: কামদুনির প্রতিবাদের দুই মুখ— টুম্পা কয়াল ও মৌসুমী কয়ালকে পরবর্তীকালে তৎকালীন শাসকদলের রোষানলে পড়তে হয়েছিল একাধিকবার। কিন্তু সমস্ত ভয় ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তাঁরা লড়াই জারি রেখেছিলেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও নতুন মোড়
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই আশ্বাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কামদুনি মামলাকে নতুন করে চালনা করে বিগত সরকারের সময়কালের খামতিগুলিকে জনগণের সামনে তুলে ধরাই বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য। তবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কামদুনির পরিবার এবার সত্যিই পূর্ণাঙ্গ বিচার পায় কি না, এখন সেটাই দেখার।
