বাংলায় কি এবার এক দফাতেই ভোট?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: গত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গ এবং ‘দফাওয়ারি ভোট’ যেন সমার্থক হয়ে গিয়েছিল। কখনও সাত দফা, কখনও আবার আট— দীর্ঘ দেড়-দুই মাস ধরে চলা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল বঙ্গবাসী। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন সেই চেনা সমীকরণ বদলে দিল। মাত্র দুই দফায় ২৯৪ আসনের ভোটগ্রহণ মিটতেই এবার জল্পনা শুরু হল— তবে কি আগামী দিনে বাংলায় এক দফাতেই ভোট সম্ভব?
রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সাম্প্রতিক পরিস্থিতির নিরিখে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, এবারের দুই দফার ভোট যেভাবে ‘রক্তপাতহীন’ এবং শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে অশান্তি ছাড়াও বাংলায় ভোট করা সম্ভব এবং তা এক দফাতেই করা যেতে পারে।
ছাব্বিশের ভোটে ভাঙল রেকর্ড
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আট দফায় ভোট হয়েছিল। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও ৪২টি আসনের জন্য সাত দফা সময় নিয়েছিল কমিশন। সেই তুলনায় ২০২৬-এর চিত্রটা ছিল একেবারে ভিন্ন:
-
নিরাপত্তার ঘেরাটোপ: গোটা রাজ্যকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছিল কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছিল রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী।
-
শান্তিপূর্ণ ভোট: ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল— এই দুই দফায় দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে ভোটগ্রহণ পর্ব।
-
রেকর্ড ভোটদান: অশান্তি কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথে এসেছেন। গড়ে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
কেন এক দফার দাবি জোরালো হচ্ছে?
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের দাবি, এবারের ভোট প্রমাণ করে দিয়েছে যে সঠিক পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকলে দীর্ঘ নির্বাচনী পর্বের প্রয়োজন নেই। বাংলার নির্বাচন মানেই ‘রক্তাক্ত’— এই দীর্ঘদিনের কলঙ্ক এবার অনেকটাই মোছা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন দপ্তর। কমিশনের এই সন্তোষজনক রিপোর্টে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ২০৩১ বা তার পরের নির্বাচনগুলো কি তবে আরও কম দিনে সম্পন্ন হবে?
উত্তর দেবে সময়
যদিও ভবিষ্যতে এক দফায় ভোট হবে কি না, তা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি সিইও। তবে ছাব্বিশের এই ‘মডেল’ যে আগামী দিনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নজির হয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ক্লান্তি সরিয়ে রেখে বাংলা কি তবে এক দফার দিকেই এগোচ্ছে? সেই উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের গর্ভেই লুকানো। তবে আপাতত নির্বিঘ্নে ভোট মেটাতে পারায় স্বস্তিতে কমিশন এবং আমজনতা— দুই পক্ষই।
