আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

21st July : ১৯৯৩-এর ২১ জুলাই আসলে কী হয়েছিল? ১৫ বছর পর রিপোর্ট পেশ করে শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি, “মমতার সাক্ষ্যই নেয়নি কমিশন” !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা। তদন্তে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট ১৫ বছর পর বিধানসভায় পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিপোর্ট তুলে তিনি দাবি করলেন, গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত। আর সবচেয়ে বড় অভিযোগ, ঘটনার প্রধান সাক্ষী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষ্যই নেয়নি কমিশন।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। বাংলার ক্ষমতায় তখন বামফ্রন্ট। তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল তিলোত্তমা। অভিযোগ, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চলে। তাতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী নিহত হন।

২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেই একুশে জুলাইয়ের সেই ঘটনার যথাযথ তদন্তের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ক্ষমতায় এসেই ২১ জুলাই কী হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আনাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু তারপর পেরিয়েছে ১৫ বছর। রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।

সোমবার ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে নিয়ম মেনে বিধানসভায় সেই রিপোর্ট পেশ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিপোর্ট তুলে ধরে তিনি জানালেন, “মণীশ গুপ্তের নির্দেশই গুলি চলেছিল। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর যথার্থতা প্রমাণিত হয়নি।”

রিপোর্ট অনুযায়ী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মোট ৪৪ জনকে তলব করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-সহ পুলিশের একাধিক কর্তা ছিলেন। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের প্রধান সাক্ষী, তাকেই নাকি ডাকেনি কমিশন!

এদিকে প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হলে তিনি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করেছিলেন। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, যে মণীশ গুপ্তের নির্দেশে গুলিচালনার ঘটনা, তাঁকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন মমতা। তাই সাক্ষ্য দেওয়া অযৌক্তিক।

রিপোর্ট পড়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেদিন উসকানি ছাড়াই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলে গুলি। তবে তাঁকে কে নির্দেশ দিয়েছিল তা জানা যায়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী যেখানে গুলি চলেছিল, তা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে অনেকটা দূরে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বিক্ষোভ আছড়ে পড়তে পারে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক আশঙ্কা। মেয়ো রোড, রেড রোড, ডোরিনা ক্রসিং-যেখানে যেখানে গুলি চলেছিল, তা পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়।

শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেনি মমতা। শহিদদের হয়ে সর্বদা সুর চড়ালেও আদতে তাঁদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টাই করেননি তিনি। তবে কি স্রেফ ভোটবাক্সের কথা ভেবেই প্রতিবছর এই দিনটিকে নিয়ে এত তোড়জোড়?

উল্লেখ্য, যার নির্দেশে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল সেই মণীশ গুপ্তকেই পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎমন্ত্রী হিসেবে জায়গা দেন। তা নিয়ে কংগ্রেস ও বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের।

১৫ বছর পর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কমিশন যদি ঘটনার মূল সাক্ষীরই বয়ান না নেয়, তাহলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। শুভেন্দুর এই রিপোর্ট পেশের পর ২১ জুলাইকে ঘিরে তৃণমূলের রাজনীতি এখন কাঠগড়ায়। তৃণমূলের পাল্টা কী জবাব আসে এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *