মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: মার্কিন হামলায় জলশূন্য ইরান
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিউজ ডেস্ক:- মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তির আলো’ ক্রমশ ম্লান করে দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা এবং ইরান। মঙ্গলবার রাত (ভারতীয় সময়) থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। একদিকে মার্কিন সেনা ইরানের মূল ভূখণ্ড ও উপকূলীয় শহরে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে, অন্যদিকে ইরানও পাল্টা ড্রোন হামলায় মার্কিন নৌবহরকে নিশানা করেছে।
১. ‘শুকিয়ে মারার ছক’: সিরিক শহরে মার্কিন হামলা
ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজগান প্রদেশের একাধিক এলাকায় রাতভর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কোহেস্তাক, মিনাব এবং বন্দর আব্বাস অন্যতম।
সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটেছে উপকূলীয় শহর সিরিক-এ।
-
শহরের বামানি জেলায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রে দু’টি প্রধান পানীয় জলের ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
-
এর ফলে গোটা সিরিক শহরে তীব্র পানীয় জল সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ খাবার জল পাচ্ছেন না।
-
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ: ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাদের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ঘটনাকে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী হামলা’ এবং ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
২. হোয়াইট হাউসের যুক্তি: ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’
মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংসের জেরেই যে এই পালটা অভিযান, তা স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে:
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সেনা মঙ্গলবার বিকেল থেকে ইরানের ওপর আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি আমাদের উপযুক্ত জবাব।”
৩. ইরানের পাল্টা আঘাত: মার্কিন নৌবহর ও ড্রোন ধ্বংস
আমেরিকার এই আক্রমণের পর হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস । মঙ্গলবার রাত ২.৩০ নাগাদ তারা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে:
-
মার্কিন নৌবহরে হামলা: বাহরিনে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবহরকে নিশানা করে একের পর এক ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি।
-
ড্রোন ভূপাতিত: হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান।
বর্তমান পরিস্থিতি: আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “যুদ্ধ এখনও জারি রয়েছে। যেকোনো আগ্রাসনের আরও ভয়ঙ্কর জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত।” এই পরিস্থিতির জেরে গোটা বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
