উত্তরাখণ্ডের ‘লুকানো লাদাখ’: রোমাঞ্চ ও ইতিহাসে ঘেরা নেলং ভ্যালি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- রুক্ষ, ধুধু পাহাড় আর আদিম সৌন্দর্যে ভরা এক উপত্যকা। এক ঝলক দেখলে মনে হতেই পারে আপনি লাদাখ কিংবা স্পিতিতে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু এই উপত্যকার অবস্থান আসলে উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশি জেলায়, যা ‘নেলং ভ্যালি’ নামে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১,০০০ ফুট উচ্চতায়, ভাগীরথী নদীর প্রধান উপনদী ‘জাদ গঙ্গা’-র অববাহিকায় গড়ে উঠেছে এই উপত্যকা। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও ট্রেকারদের কাছে যেমন এটি এক স্বর্গরাজ্য, তেমনই এর পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস আর রোমাঞ্চ।
ইতিহাস ও সিল্ক রুটের ঐতিহ্য
ভারত ও চীনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা -র খুব কাছে অবস্থিত এই নেলং ভ্যালি। প্রাচীনকালে ভারত ও তিব্বতের মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ ছিল এটি, যা পরবর্তীতে বিখ্যাত ‘সিল্ক রুট’-এর অংশ হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর কৌশলগত কারণে এই সীমান্ত অঞ্চল সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক পর, ২০১৫ সালে পর্যটকদের জন্য এই উপত্যকার দরজা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি গঙ্গোত্রী ন্যাশনাল পার্কের অংশ। ভাগ্য ভালো থাকলে এখানে দেখা মিলতে পারে তুষার চিতা (Snow Leopard), কস্তুরী মৃগ বা হিমালয়ান ব্লু শিপ (ভরাল)-এর মতো বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণের।
পাহাড় কেটে তৈরি আশ্চর্য ‘গারতাং গলি ব্রিজ’
নেলং ভ্যালির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ঐতিহাসিক কাঠের সেতু ‘গারতাং গলি’। সপ্তদশ শতাব্দীতে পেশোয়ারের পাঠানরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় খাড়া পাহাড় কেটে এই অভাবনীয় ঝুলন্ত কাঠের সেতুটি তৈরি করেছিলেন। ১৪০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটিই ছিল নেলং, জাদং এবং ভোট গ্রামগুলোর মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ১৯৬২ সালের আগে তিব্বতি ব্যবসায়ীরা ইয়াক, ঘোড়া ও ভেড়ার পিঠে পণ্য বোঝাই করে এই পথেই যাতায়াত করতেন। যুদ্ধের পর প্রায় ৪০ বছর পরিত্যক্ত থাকায় সেতুটি প্রায় ধ্বংসের মুখে চলে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি উত্তরাখণ্ড সরকার এটির সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করেছে। এই সেতু থেকে নেলং ভ্যালির যে প্যানোরামিক দৃশ্য দেখা যায়, তা এক কথায় অতুলনীয়।
ভ্রমণের সেরা সময়
নেলং ভ্যালি ভ্রমণের সেরা সময় হলো মে থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস। নভেম্বর মাসের পর প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে এই অঞ্চল সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব চলে যায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। অন্যদিকে, বর্ষাকালে ধস নামার আশঙ্কা থাকায় এই রুটে ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
কীভাবে পৌঁছবেন?
দুর্গম হলেও নেলং ভ্যালি উত্তরাখণ্ডের প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত।
-
রেলপথে: নিকটবর্তী রেলস্টেশন হলো ঋষিকেশ এবং হরিদ্বার। ঋষিকেশ থেকে ট্যাক্সি বা গাড়িতে উত্তরকাশি হয়ে ভৈরব ঘাঁটি পৌঁছনো যায়, যা নেলং ভ্যালির প্রবেশদ্বার।
-
আকাশপথে: নিকটবর্তী বিমানবন্দর হলো দেরাদুনের জলি গ্র্যান্ট এয়ারপোর্ট, যা উপত্যকা থেকে প্রায় ৩১৫ কিমি দূরে অবস্থিত।
