আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

বীরভূমে তৃণমূলের ভরাডুবি: অনুব্রত-কাজল দ্বন্দ্বে ফায়দা তুলল বিজেপি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বীরভূম: বীরভূম জেলাজুড়ে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার ব্যালট বক্সে চরম প্রভাব ফেলল। রাজনৈতিক মহলের মতে, জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিতে বিজেপি এবং ৫টিতে তৃণমূলের জয়ের নেপথ্যে এই দুই নেতার গোষ্ঠীর ‘মুখ দেখাদেখি বন্ধ’ হওয়া পরিস্থিতিই দায়ী।

দ্বিখণ্ডিত তৃণমূল ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোন্দল

অনুব্রত মণ্ডলের জেলযাত্রার পর কাজল শেখের জেলা রাজনীতিতে উত্থান ঘটে। তিনি জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও কোর কমিটির সদস্য হওয়ার পর থেকেই অনুব্রত-বিরোধী শিবিরের প্রভাব বাড়তে থাকে। জেল থেকে অনুব্রত ফেরার পর সেই লড়াই তীব্র হয়, যার ফলে জেলা তৃণমূল আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

  • নিষ্ক্রিয়তা: অনুব্রত অনুগামীরা কাজল ঘনিষ্ঠ প্রার্থীদের হয়ে কাজ করেননি।

  • অসহযোগিতা: একইভাবে অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ প্রার্থীদের জেতাতে কাজল অনুগামীরা সেভাবে গা লাগাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

  • ফলাফল: কর্মীদের এই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে বিজেপি জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নিয়েছে।

ব্যক্তিগত জয় বনাম সাংগঠনিক হার

তৃণমূলের অন্দরে এবার টিকিট বন্টন নিয়েও স্পষ্ট বিভাজন লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

প্রার্থী / এলাকা নেতার ঘনিষ্ঠতা ফলাফল
কাজল শেখ (হাসন) স্বয়ং প্রার্থী জয়ী
বিধান চন্দ্র মাঝি (নানুর) কাজল অনুগামী জয়ী
নরেশ চন্দ্র বাউরী (দুবরাজপুর) কাজল অনুগামী পরাজিত
বোলপুর আসন অনুব্রত ঘনিষ্ঠ জয়ী
সাঁইথিয়া, সিউড়ি, ময়ূরেশ্বর অনুব্রত ঘনিষ্ঠ পরাজিত

নিজের কেন্দ্র হাসন এবং নিজের গড় নানুরে প্রার্থীকে জয়ী করে কাজল শেখ তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে পারলেও, জেলার সার্বিক চিত্র তৃণমূলের জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, অনুব্রতর আশীর্বাদধন্য প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র বোলপুর ছাড়া বাকি সব আসনেই পরাজয় ঘটেছে। দুই শিবিরই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলছে, যার ফলে জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *