আজকের দিনেখেলা

বিশ্বকাপ দূরঅস্ত, স্মৃতি মন্থনই সার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক: অনেকেই বলছেন, আমরা হলাম ঈশপের গল্পের সেই খরগোশ যাকে টপকে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কচ্ছপ। যে দেশগুলোকে হাসতে হাসতে হারাত ভারত ,তারা ফুটবল বিশ্বকাপ অংশ নিচ্ছে, ভারত দূরগ্রহের বস্তুর টেলিভিশনের সামনে বসে রাত জাগছে।
কেন এমনটা হয়, চার বছর অন্তর মনে মনে ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ গাইতে হয়? এরই উত্তর খুঁজছেন প্রাক্তন ফুটবলাররা।

প্রাক্তন ফুটবলার কৃষ্ণেন্দু রায় যেমন বলছিলেন, ‘ফুটবলের বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা দরকার। বিশ্বকাপতো দূরঅস্ত এশিয়ান গেমস নিয়েই আমাদের গঠনমূলক কোনও ভাবনা নেই। আমাদের নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য নেই।’ হতাশ কৃষ্ণেন্দুর কথায়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না থাকলে যা হয়, যে উজবেকিস্তানকে ভারত ২০০২তে হারিয়েছিল, তারা বিশ্বকাপে। আমরা পিছনের দিকে এগিয়ে চলেছি।’ ঠিকই বলেছেন প্রাক্তন ফুটবলার। তাঁদের প্রায় দু’বছর জাতীয় শিবির চালিয়ে ভারতকে ৮২’র এশিয়াডের কোয়াটার ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিলেন কোচ প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পঁচিশ থেকে তিরিশ জনকে বেছে নিয়ে দু-তিন বছর শিবিরে রেখে তারপর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন কৃষ্ণেন্দু রায়।

আরেক প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস মনে করেন, ফুটবলে ইউথ সিস্টেমটাকে ঠিক করতে না পারলে ভালো কিছু হওয়া মুশকিল। ‘যেবার ভারত উজবেকিস্তানকে হারাল, আমি ছিলাম সেই দলে। কোচ ছিলেন রুস্তম আক্রামভ। তিনিই উজবেকদের এশিয়া চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। আমাদের বলতেন উজবেকিস্তান একদিন বিশ্বকাপ খেলবে।’ দীপেন্দু মনে করেন বাংলায় আবার স্কুল আর কলেজ ফুটবল চালু হোক। বহু ফুটবলার পাওয়া যাবে এই সব প্রতিযোগিতা থেকে। জুনিয়র ফুটবলারদের বিদেশে পাঠানো হোক এতে তাদের এক্সপোজার যেমন হবে, অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
প্রাক্তন ফুটবলার এবং কোচ অভিজিত মণ্ডল কিন্তু এখনই আশার বাণী শোনাতে নারাজ। তাঁর সাফ কথা, ‘ফুটবলে সাফল্য পেতে হলে যা যা দরকার সেগুলো আমাদের নেই। আমরা স্ট্রেংথ, স্পিড, স্ট্যামিনা- সব কিছুতেই পিছিয়ে আছি। উচ্চতা, শারীরিক সক্ষমতা না থাকলে বেশিদূর যাওয়া যাবে না। জাপান, কোরিয়া, চিনের দিকে তাকালে দেখা যাবে ছ’ফুটের কাছাকাছি ফুটবলার রয়েছে ওই সব দেশে। সবটাই পরিকল্পনামাফিক কাজের ফল। আমদেরও একই ভাবে এগিয়ে যেতে হবে।’

হতাশার সুর শোনা গেল প্রাক্তন নক্ষত্র ফুটবলার শ্যাম থাপার গলাতেও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার ফুটবলের শ্রীবৃদ্ধি না হলে ভারতীয় ফুটবল এগবে না। বলছিলেন, ‘এখানে সবই রেডিমেড চাই। কলকাতার তিন প্রধানেই এই ব্যাপারটা চলে আসছে। এভাবে তো চলতে পারে না। এখানকার গরীব ছেলেদের ছেলেদের ভালো মানের বুট জোটে না। অ্যাকাডেমির দরকার। তাহলে ফুটবলের সংস্কৃতি ফিরে আসবে। মাঠগুলো ফাঁকা থাকবে না। এত মাঠ, খেলার ছেলে নেই। কীভাবে উন্নতি হবে তাহলে!’

রীতিমত বিরক্ত প্রাক্তন ফটবলার কুন্তলা ঘোষদস্তিদারও। তাঁর কথায়, ‘এখানে মন্দির-মসজিদ নিয়ে যতটা মাথা ঘামানো হয় ততটা হয় না ফুটবল নিয়ে। কাজ হয়ত কিছু হচ্ছে কিন্তু তা বিচ্ছিন্নভাবে। দেশে এই মুহূর্তে ভালো মানের একটা অ্যাকাডেমি আছে। মিনার্ভা পাঞ্জাব। তারা সম্প্রতি বিদেশে গোথিয়া কাপ জিতে এসেছে। এরকম আরও অ্যাকাডেমির প্রয়োজন। প্রয়োজন ক্রীড়াবিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ।’

প্রতি চার বছর অন্তর ফুটবলের বিশ্বকাপ আসে। সংবাদ মাধ্যম একই লেখা লেখে। প্রাক্তনরাও তাঁদের মত প্রকাশ করেন। ফুটবলপ্রেমীরা সোনালী দিনের স্মৃতি মন্থন করেন। রাত জেগে খেলা দেখেন আর সময়-সুযোগ পেলে মন দিয়ে শোনেন ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *