অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বস্তাবন্দি! ডায়মন্ড হারবারে চরম বিক্ষোভ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ডায়মন্ড হারবার: ভোটের প্রতিশ্রুতি মেনে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চালু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রথম মাসেই (জুন) বড়সড় ধাক্কা খেলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুরসভা ও কুলপি ব্লকের হাজার হাজার মহিলা। অফলাইনে জমা দেওয়া ফর্ম অনলাইনে আপলোড না করে বস্তাবন্দি করে রেখে দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল। ফলে প্রথম মাসের টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কয়েক হাজার উপভোক্তা, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
বস্তাবন্দি ফর্ম, সার্ভারে হয়নি আপলোড
বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই মতো কাজও শুরু হয়। কিন্তু ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ড এবং কুলপি ব্লকের একটি বড় অংশের মহিলারা জুনের টাকা পাননি।
-
বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ: বিজেপি নেতা আকাশ সরকারের অভিযোগ, পুরসভার যে সমস্ত কর্মীদের ওপর এই অফলাইন ফর্মগুলি অনলাইনে আপলোড করার দায়িত্ব ছিল, তাঁদের অনেকেই সিপিএম এবং তৃণমূলের সমর্থক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁরা কাজ না করে হাজার হাজার ফর্ম বস্তাবন্দি করে ফেলে রেখেছিলেন। সার্ভারে তথ্য আপলোড না হওয়ার কারণেই মহিলারা টাকা পাননি।
-
হয়রানির মুখে মহিলারা: অফলাইনের ফর্ম বাতিল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ফের নতুন করে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করা শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার পুরসভাতেই চলছে এই প্রক্রিয়া।
ক্ষোভে ফুঁসছেন উপভোক্তারা
নতুন করে ফর্ম ফিলাপের খবর ছড়াতেই পুরসভা চত্বরে ভিড় আছড়ে পড়ে হাজার হাজার মহিলার। লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। বিক্ষুব্ধ মহিলাদের অভিযোগ, “প্রথমেই যদি আমাদের সরাসরি অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে বলা হতো, তাহলে আজ এই হয়রানির শিকার হতে হতো না। এই তীব্র রোদ আর বৃষ্টির মধ্যে আমাদের লাইনে দাঁড়িয়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে।”
জুনের বকেয়া ৩ হাজার টাকা কি মিলবে?
অনলাইনে নতুন করে ফর্ম ফিলাপ করার পর আগামী মাস থেকে টাকা পাওয়ার রাস্তা হয়তো পরিষ্কার হবে, কিন্তু যে সমস্ত মহিলারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আগেই অফলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের জুনের টাকা কীভাবে মিলবে? সেই বকেয়া টাকা কি সরকার দেবে, নাকি পুরসভার গাফিলতির কারণে প্রথম মাসের ৩ হাজার টাকা থেকে চিরতরে বঞ্চিত হতে হবে তাঁদের? এই প্রশ্নই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে ডায়মন্ড হারবার ও কুলপির কয়েক হাজার ভুক্তভোগী মহিলাকে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মহকুমা শহর ডায়মন্ড হারবারে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। পুরসভা কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
