আজকের দিনেবাংলার আয়না

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় বিএলও-কে ঘিরে তুলকালাম

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,গাইঘাটা: ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনা। মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গাইঘাটায় ক্ষোভের মুখে পড়লেন এক বিএলও (BLO)। নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার করা হয় ওই কর্মীকে। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার পাঁচশিলা এলাকার ঘটনা। পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নমিতা দাস ওই এলাকায় বিএলও-র দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁর বুথে মোট ৮৭২ জন ভোটার রয়েছেন। অভিযোগ, ২০২৬-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর অনেক ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল। সম্প্রতি সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, বেশ কিছু পুরোনো ভোটারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ জমছিল এলাকায়।

বিএলও-কে ঘিরে বিক্ষোভ ও ‘বন্দি’ দশা

শুক্রবার বিকেলে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন নমিতা দাস। সেই সময় নাম বাদ যাওয়া একদল ভোটার তাঁকে ঘিরে ধরেন। উত্তেজিত জনতার অভিযোগ:

  • বিএলও-র গাফিলতির কারণেই তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে।

  • টাকার বিনিময়ে বিএলও কাজ করেছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আতঙ্কিত নমিতা দাস দ্রুত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ (AERO) এবং পুলিশকে জানান।

পুলিশের তৎপরতা ও উদ্ধার

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গাইঘাটা থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিএলও-কে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বিএলও-কে ঘিরে ঝামেলার খবর পেয়েই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

চড়ছে উত্তেজনার পারদ

ভোটের আগে একের পর এক জেলায় ভোটার তালিকা নিয়ে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মালদহের কালিয়াচক বা মোথাবাড়ির মতো গাইঘাটাতেও যেভাবে সরকারি কর্মীকে নিগ্রহের চেষ্টা করা হলো, তাতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিএলও-দের একাংশ। যদিও কমিশন জানিয়েছে, নাম বাদ পড়লে ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ রয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *