আজকের দিনেবাংলার আয়না

তৃণমূল কর্মীর দোকানে আগুন, কৃষ্ণমাটিতে দফায় দফায় বোমাবাজি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ভাঙড়: ভোট মিটেছে ঠিকই, কিন্তু ভাঙড়ের আকাশে-বাতাসে এখনও বারুদের গন্ধ। বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের একাধিক এলাকায় নতুন করে মাথা চাড়া দিল রাজনৈতিক হিংসা। তৃণমূল কর্মীর দোকান পুড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি—সব মিলিয়ে আতঙ্কে সিঁটিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

দোকানের আগুনে পুড়ল সম্প্রীতি

বৃহস্পতিবার রাতে ভাঙড় থানার নলমুড়ি এলাকায় মহিবুল মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীর দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মহিবুলের দাবি, তিনি তৃণমূল করেন বলেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে আইএসএফ (ISF) কর্মীরা তাঁর রুটিরুজিতে টান দিয়েছে। যদিও নওশাদ সিদ্দিকীর দল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

কৃষ্ণমাটিতে বোমাবাজি ও বাইক ভাঙচুর

অন্যদিকে, কৃষ্ণমাটি এলাকায় তৃণমূল ও আইএসএফ সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে দফায় দফায় বোমাবাজি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বোমার সুতলি ও ভাঙচুর হওয়া বাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজয়গঞ্জ থানার পুলিশ ও বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

কমিশনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার পর এই অশান্তির ঘটনায় সিইও (CEO) দপ্তর কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে:

  • অশান্তি হলেই তাৎক্ষণিক ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।

  • পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারির পাশাপাশি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই ভাঙড়ের পরিস্থিতি থমথমে। ভোটের ফল প্রকাশের পর এই অশান্তি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে—এই আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *