আজকের দিনেসিলেবাস থেকে

সন্তানকে ‘না’ বলতে শিখুন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতাঃ প্রতিটি পরিবার এখন প্রায় ছোট। মা-বাবা আর এক সন্তান।খুব স্বাভাবিকভাবেই সন্তান খুবই আদরের । তার দাবি, আবদার কখনো না মেটাতে পারলে মা-বাবার ই খারাপ লাগে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেই আবদার জেদে,রাগ,চেঁচামেচি তে পরিণত হয়। তাই ছোট থেকেই সন্তানের আবদার কে ‘না’ বলতে শিখুন। শুধু মারলে বা বকলেই যে আপনার সন্তান শুধরে যাবে এমনটা নয়। কিভাবে না বলবেন তারও আছে কিছু পদ্ধতি।

শান্তভাবে ‘না’ বলুন

সরাসরি ‘না’, বলবেন না,তার  বদলে বলুন— ‘আমি জানি এই তোমার খুব পছন্দ , কিন্তু আজ আমি এতো টাকা আনিনি, পরে কিনে দেব।’ এতে শিশুর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, ফলে ‘না’ কথাটা আর তার কাছে সহজেই এক্সেপটেবল হয়ে যাবে।

কারণ ব্যাখ্যা করুন

সবকিছুতেই এখনকার বাচ্ছাদের কৌতুহল বেশী। তাই ‘না’ বলার একটা কারণ বলে দিন। যেমন, ‘ডিনারের আগে আইসক্রিম খাওয়া যাবে না, কারণ আগে শরীরের জন্য ভালো খাবার দরকার।’ এতে তারা ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে কেন কিছু নিয়ম মানা জরুরি।

অপশন রাখুন

শুধু ‘না’ বললে শিশুরা অসহায় বোধ করতে পারে। তাই অপশন রাখুন। যেমন- ‘এখন কার্টুন দেখা যাবে না, তবে তুমি চাইলে রং করতে পারো বা ব্লক দিয়ে খেলতে পারো।’ এতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছুটা স্বাধীনতা তারা পায়।

মজার ছলে এড়িয়ে যান

কখনও কখনও হালকা হাস্যরস পরিস্থিতি সহজ করে দেয়। যদি বাচ্চা পাঁচটা বিস্কুট চায়, আপনি বলতে পারেন— ‘পাঁচটা! এত তো একটা দৈত্যও খেতে পারবে না!’ এতে শিশুও হাসতে হাসতেই নিয়ম মেনে নেয়।

না বলা মানেই ঝগড়া বা অশান্তি নয়। সহানুভূতি, যুক্তি, বিকল্প ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে এই ছোট্ট শব্দটিই হতে পারে বড় শিক্ষার মাধ্যম। আপনার সন্তান হয়তো সব সময় ‘না’ শুনে খুশি হবে না। কিন্তু যখন তারা বুঝতে পারবে যে তাদের কথা শোনা হচ্ছে এবং সম্মান দেওয়া হচ্ছে, তখন তারা সেটি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। রাগ বা অপরাধবোধ ছাড়া নিয়ম মেনে চললে শিশুরা বুঝতে শেখে যে এই নিয়মগুলো স্থায়ী এবং ন্যায্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *