Swapan Nandi : গোঁফ কেটেও শেষ রক্ষা হল না, কেরল থেকে গ্রেপ্তার আরামবাগের প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দী !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আরামবাগ :- গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ছদ্মবেশ ধরে গোঁফ কেটেও শেষ রক্ষা হল না আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দীর। কেরল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে আরামবাগ থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই তাঁকে রাজ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে আরামবাগ পুরসভার গ্রিন সিটি প্রকল্পে সোলার বিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর জন্য ই-টেন্ডার ডাকা হয়। পুর এলাকার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশুশিক্ষা কেন্দ্র এবং ১১টি আপার প্রাইমারি ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬৪.৪৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। সেই বিদ্যুৎ বিদ্যালয়গুলির পাশাপাশি পুরসভার স্ট্রিট লাইটে ব্যবহারের কথা ছিল। অভিযোগ, সেই প্রকল্পেই কোটি কোটি টাকা নয়-ছয় হয়েছে।
এই দুর্নীতির অভিযোগ প্রথম সামনে আনেন তৎকালীন তৃণমূল নেতা ও বর্তমান পুরপ্রধান সমীর ভান্ডারী। স্বপন নন্দীকে পুরপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে সমীর ভান্ডারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনিই আরামবাগ থানায় গ্রিন সিটি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেন। তবে সেই সময় তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকায় তদন্তের অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ।
পুরপ্রধানের পদ থেকে সরলেও স্বপন নন্দী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ছিলেন। তৃণমূলের পুরনো রাজ্য কমিটির রাজ্য সম্পাদকও ছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পরই তিনি আরামবাগ ছেড়ে গা ঢাকা দেন। এরপর পুরনো মামলার তদন্তে নামে পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পুরসভার অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুণ্ডু, অস্থায়ী ইলেকট্রিক সুপারভাইজার কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায় ও এক ঠিকাদার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাতক থাকাকালীন তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দিতে লুক বদল করেন স্বপন। গোঁফ কামিয়ে ফেলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেরল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাক্তন পুরপ্রধানকে হেফাজতে নিয়ে ধৃত বাকি তিনজনের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে। গোটা দুর্নীতির শিকড় কোথায় এবং আর কারা কারা জড়িত, তা জানতেই এই পদক্ষেপ। গ্রিন সিটি প্রকল্পে আর্থিক নয়-ছয়ের অভিযোগে প্রাক্তন পুরপ্রধান গ্রেপ্তার হওয়ায় আরামবাগের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
