ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই চলবে Google Pay!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ডিজিটাল লেনদেনের যুগে এখন পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করার চেয়ে স্মার্টফোন বের করার প্রবণতা বেশি। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয় যখন পরিবারের ছোট সদস্য বা বয়স্কদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকে না। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে এল গুগল পে। ইউপিআই সার্কেলের অধীনে তারা নিয়ে এসেছে দুর্দান্ত এক ‘পকেট মানি’ ফিচার।
কী এই পকেট মানি ফিচার?
গুগল পে-র এই নতুন ফিচারের মাধ্যমে একজন মূল অ্যাকাউন্ট হোল্ডার তাঁর বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেনের অনুমতি দিতে পারেন। অর্থাৎ, যার নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, তিনিও পরিবারের কারোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইনেই পেমেন্ট করতে পারবেন। অ্যাপের ‘People’ অপশনের নিচেই এই সুবিধাটি পাওয়া যাবে।
ফিচারের প্রধান সুবিধাসমূহ:
অনুমতি সাপেক্ষে লেনদেন: সেকেন্ডারি ইউজার (যাঁর অ্যাকাউন্ট নেই) পেমেন্ট করার সময় মূল অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
খরচের সীমা নির্ধারণ: মূল ব্যবহারকারী নির্ধারণ করে দিতে পারবেন যে সামনের ব্যক্তি মাসে কত টাকা খরচ করতে পারবেন।
নিরাপদ পেমেন্ট: প্রতিটি পেমেন্টের জন্য অনুমোদনের অপশন থাকে, ফলে জালিয়াতির ভয় নেই।
ব্যবহারের নিয়ম ও শর্তাবলী:
১. এই সুবিধা পেতে সেকেন্ডারি ইউজারের মোবাইল নম্বরটি মূল অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের কন্টাক্ট লিস্টে থাকতে হবে।
২. দু’পক্ষের ফোনেই Google Pay রেজিস্টার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।
৩. সেকেন্ডারি ইউজারের নিজস্ব ইউপিআই আইডি বা ইউপিআই সার্কেল কোড থাকতে হবে।
৪. মাসিক সীমা: এই ফিচারের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী মাসে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন। তবে এই সীমার বেশি খরচ করতে চাইলে মূল অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হবে।
কীভাবে সেট করবেন এই ফিচার?
প্রথমে আপনার Google Pay প্রোফাইলে যান। এরপর ‘UPI Circle’ অপশনে ক্লিক করে ‘পকেট মানি’-তে প্রবেশ করুন। যাকে যুক্ত করতে চান, তাঁর নাম বা নম্বর সিলেক্ট করে তাঁর ইউপিআই সার্কেল কোডটি স্ক্যান করে নিন। এরপর মাসিক লিমিট সেট করে আপনার সাথে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য (যেমন [Aadhaar Redacted] নম্বর ইত্যাদি) দিয়ে দিন। সবশেষে ইউপিআই পিন দিয়ে ইনভাইটেশন পাঠাতে হবে। দ্বিতীয় পক্ষ সেই অনুরোধ গ্রহণ করলেই ফিচারটি চালু হয়ে যাবে।
মনে রাখবেন: এই ফিচারের সুবিধা নিতে গেলে দ্বিতীয় পক্ষের অর্থাৎ সেকেন্ডারি ইউজারের KYC ভেরিফিকেশন করা বাধ্যতামূলক।
