বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেন সুশান্ত ঘোষ, ইস্তফা দিচ্ছেন অরূপ চক্রবর্তীও
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতা পুরসভায় বড়সড় ভাঙন ও ড্যামেজ কন্ট্রোলের মুখে পড়ল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কসবার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। বুধবার নিজেই পুরসভায় গিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের হাতে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, সুশান্তবাবুর ইস্তফার রেশ কাটতে না কাটতেই জানা যাচ্ছে, কলকাতা পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান তথা দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলর এবং দলের অন্যতম পরিচিত মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও পদত্যাগ করতে চলেছেন।
কাউন্সিলর পদে থাকছেন, কিন্তু কেন এই ইস্তফা?
টানা দু’জন হেভিওয়েট নেতার ইস্তফায় পুরসভার অন্দরে তোলপাড় শুরু হলেও, দু’জনেই জানিয়েছেন যে তাঁরা আপাতত কাউন্সিলর হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। তবে ঠিক কী কারণে বরো চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে তাঁরা ইস্তফা দিলেন, তা নিয়ে এখনও সরাসরি মুখ খোলেননি কেউই। সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী দু’জনেই জানিয়েছেন, ইস্তফার আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁরা যৌথভাবে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান ও সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করবেন।
কসবার ‘টানাপোড়েন’ ও সুশান্ত ঘোষের রাজনৈতিক অতীত
কসবা এবং রাজডাঙা উদয়ন সংঘের দুর্গাপুজোর মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সুশান্ত ঘোষের জনপ্রিয়তা সর্বজনবিদিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাঁর রাজনৈতিক গ্রাফে একাধিক ঝড়ঝাপটা দেখা গিয়েছে:
-
খুনের চেষ্টা ও নিরাপত্তা বিতর্ক: বছর দুই আগে কসবায় নিজের বাড়ির সামনেই বাইকে চড়ে আসা অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজের হামলার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সে যাত্রায় বন্দুক লক হয়ে যাওয়ায় অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচলেও, তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছিল।
-
রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত: সেই সময় সুশান্তবাবু ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, শাসকদলের সক্রিয় রাজনীতি করার খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁকে। এমনকি রাজনীতিতে থাকবেন কি না, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনার কথাও বলেছিলেন। তবে সেই ধাক্কা সামলে ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
নড়বড়ে ছাব্বিশ-উত্তর কলকাতা পুরসভা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার অন্দরে অসন্তোষের আবহ তৈরি হয়েছিল। সুশান্ত-অরূপের আগে, ভোটের ফল প্রকাশের পরই ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করেছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ: একের পর এক বরো চেয়ারম্যান ও গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধানদের পদত্যাগ কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের ভিতকে অনেকটাই নড়বড়ে করে দিল। বিশেষ করে ভোটের পর দলের অন্দরে যে সুপ্ত অসন্তোষ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছিল, এই ইস্তফাগুলি তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন দেখার, এই জোড়া ইস্তফার পর আগামী দিনের সাংবাদিক বৈঠকে সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী দলের বিরুদ্ধে কোনো বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কি না।
