আজকের দিনেতিলোত্তমাভারতরাজনীতি

Supreme Court-Shatadru-Arup : মেসিকাণ্ডে এবার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন শতদ্রু দত্ত, অরূপ বিশ্বাসকে হাইকোর্টের রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- যুবভারতীতে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে চরম অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলার জেরে বিতর্ক তুঙ্গে। আকাশছোঁয়া দামে টিকিট কেটেও বহু দর্শক মেসিকে দেখতে পারেননি। এই ঘটনায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। অরূপ বিশ্বাস হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পাওয়ার পরই পাল্টা আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন শতদ্রু।

যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের দিন চূড়ান্ত অব্যবস্থা তৈরি হয়। অভিযোগ, গোটা সময় মেসির সঙ্গে লেপ্টে ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এর জেরে সাধারণ দর্শকরা টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পারেননি। ঘটনার পর বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত।

এরপর হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চান অরূপ বিশ্বাস। হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ৪৮ ঘণ্টার নোটিশ দিয়ে তলব করা যাবে, তবে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে না। আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্যও ছাড়তে পারবেন না অরূপ বিশ্বাস।

এই রায়ের বিরুদ্ধেই সরব শতদ্রু দত্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, “হাইকোর্টে অরূপ বিশ্বাসকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। ওঁনাকে গ্রেফতার করা যাবে না। আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করব। সেখান থেকে সদুত্তর না পেলে সুপ্রিম কোর্টে যাব।”

শতদ্রুর প্রশ্ন, “আমাকে যখন গ্রেফতার করা হয়েছিল তখন বলা হয়েছিল আমি প্রভাবশালী। অরূপ বিশ্বাস তো আমার থেকেও প্রভাবশালী। উনিও প্রমাণ লোপাট করতে পারেন, প্রভাব খাটাতে পারেন।”

এদিকে শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে এসেছে। তিনি বলেন, “মেসিকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। এই ঘটনায় রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। মেসিকে জড়িয়ে ধরে অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন! মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু? মেসির অত কাছাকাছি উনি গেলেন কেন? এতে মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি?”

বিচারপতি আরও বলেন, “গোটা দেশের আরও অনেক জায়গায় মেসি গেছেন, কোথাও তো এসব হয়নি।” বারবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়াচ্ছেন অরূপ বিশ্বাস। আদালতে তাঁর আইনজীবী জানান, রক্ষাকবচ পেলে কালই হাজিরা দেবেন।

মেসি ইভেন্টকে ঘিরে যুবভারতীর ঘটনা এখন আইনি লড়াইয়ে গড়িয়েছে। হাইকোর্টের রক্ষাকবচ পেয়ে আপাতত স্বস্তিতে অরূপ বিশ্বাস, কিন্তু শতদ্রু দত্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিতর্ক আরও বাড়ল। রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের পর এবার সব নজর শীর্ষ আদালতের দিকে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *