যেকোনো ভাইরাসের যম! AI-এর সাহায্যে তৈরি ‘সুপার-ভ্যাকসিন’
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ভবিষ্যতে করোনার চেয়েও মারাত্মক ‘ডিজ়িজ় এক্স’ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। ইবোলা বা জ়িকার মতো ভয়ংকর ভাইরাস মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি সেরে রাখতে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করেছেন এক সর্বগুণসম্পন্ন টিকা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপার-ভ্যাকসিন’। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই টিকা যে কোনো ধরনের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে অনায়াসে জব্দ করতে পারবে।
কেন এটি ‘সুপার-ভ্যাকসিন’?
এতদিন পর্যন্ত তৈরি হওয়া টিকাগুলি মূলত নির্দিষ্ট কোনো রোগ প্রতিরোধের জন্য কাজ করত।
-
প্রচলিত টিকার সীমাবদ্ধতা: ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা কেবল ফ্লু রুখতে বা নিউমোনিয়ার টিকা নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।
-
একক সমাধানে সব বাধা জয়: কেমব্রিজের এই নতুন টিকাটি কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাইরাসের জন্য নয়। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যে কোনো অজানা শত্রু ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াকে চিনে নিয়ে লড়াই করতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ম্যাজিক: যেভাবে তৈরি হলো এই টিকা
এই টিকা তৈরির পদ্ধতিটি প্রথাগত পদ্ধতির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
-
জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ: বিজ্ঞানীরা বিশ্বের নানা প্রান্তের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার নমুনা সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাহায্যে সেগুলির জিনগত বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করেছেন।
-
সুপার-অ্যান্টিজেন: ডিএনএ ও আরএনএ-র বিপুল পরিমাণ জটিল জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’।
-
রূপবদলকারী ভাইরাসের যম: এই টিকা এতটাই শক্তিশালী যে, কোনো ভাইরাস যদি বারবার নিজের রূপ পরিবর্তন (Mutation) করে, তবুও টিকাটি তাকে চিনতে পারবে এবং প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।
মানুষের শরীরে সফল প্রয়োগ
কেমব্রিজের এই গবেষণাটি নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরাও কাজ শুরু করেছেন।
-
পজিটিভ রেজাল্ট: অক্সফোর্ডের গবেষক দলের ডিরেক্টর অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড জানিয়েছেন, মানুষের শরীরে এই টিকার ট্রায়াল বা প্রয়োগ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
-
অ্যান্টিবডি গঠন: যাঁদের শরীরে এই টিকা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের শরীরেই শক্তিশালী ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।
-
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন: বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই টিকা কাজ করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে যদি বড় কোনো অতিমারি হানা দেয়, তবে এই ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।
