ভোটের মুখে ফের তপ্ত ভাঙড়: তৃণমূল কর্মীর বাগানে ১০০টি তাজা বোমা উদ্ধার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ভাঙড়: ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ফের চেনা ছন্দে ‘অশান্ত’ ভাঙড়। শনিবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার উত্তর কাশীপুর থানার ছেলে গোয়ালিয়া এলাকায় বিপুল পরিমাণ বোমা উদ্ধার ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক। একটি ব্যাগের ভিতর থেকে অন্তত ১০০টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সম্মুখ সমরে তৃণমূল ও আইএসএফ ।
গোপন অভিযানে বোমার পাহাড়
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, ছেলে গোয়ালিয়া এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ির আশেপাশে সন্দেহজনক কিছু মজুত করা হয়েছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই একটি নির্দিষ্ট বাড়ির পিছনের আমবাগানে তল্লাশি শুরু করে বাহিনী। তল্লাশি চলাকালীন একটি ব্যাগ পাওয়া যায়, যার ভিতর থেকে সার দিয়ে সাজানো ১০০টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়। তড়িঘড়ি এলাকাটি ঘিরে ফেলে বম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়। পরে বিশেষজ্ঞ দল এসে বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করে।
তৃণমূল বনাম আইএসএফ: চাপানউতোর
বোমা উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা:
-
তৃণমূলের দাবি: স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে পরিকল্পনা করে তাঁদের কর্মীর বাড়ির বাগানে বোমা রেখে গিয়েছে। শাসকদলকে বদনাম করতেই এই ষড়যন্ত্র বলে তাঁদের দাবি।
-
আইএসএফ-এর পালটা দাবি: বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের কর্মীরাই এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য এবং বিরোধীদের ভয় দেখাতে এই বোমা মজুত করেছিল। কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ায় এখন দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।
আতঙ্কে ভাঙড়বাসী
শনিবারই ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি গ্রামে ফিরলে স্থানীয়দের ব্যাপক গণপিটুনির শিকার হন। পরে এনআইএ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ১০০টি বোমা উদ্ধারের ঘটনা বাসিন্দাদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ এখন ‘ভোট না কি বোমার লড়াই’—এই আতঙ্কে সিঁটিয়ে রয়েছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা
কাশীপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলদারি চালানো হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ বোমা কোথা থেকে এল, কারা এই মজুতের নেপথ্যে রয়েছে এবং নির্বাচনের আগে বড় কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
