আজকের দিনেভারতরাজনীতি

DMK-STALIN : আসন পুনর্বিন্যাসে বদলাচ্ছে স্ট্যালিনের সুর? ডিএমকের নতুন অবস্থান ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- একসময় আসন পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের অন্যতম কড়া সমালোচক ছিলেন ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন (DMK-STALIN) । লোকসভায় বিল পেশ হওয়ার দিন কালো পোশাক পরে প্রকাশ্যে বিলের কপি পুড়িয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল ডিএমকের, আর রাহুল গান্ধীকে প্রকাশ্যে ‘ভাই’ বলেও সম্বোধন করতেন স্ট্যালিন। কিন্তু তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

সম্প্রতি দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে স্ট্যালিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ডিএমকে আর কংগ্রেসের স্বাভাবিক মিত্র হিসেবে নিজেকে দেখছে না। কেন্দ্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তের অন্ধ বিরোধিতা করবে না দল, আবার কংগ্রেসের প্রতিটি অবস্থানকেও সমর্থন করবে না। প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি। তবে আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে ডিএমকের অবস্থান কী হবে, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে স্ট্যালিন শুধু বলেছেন, “অপেক্ষা করুন।”

এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যে বিলের বিরুদ্ধে এতদিন সরব ছিলেন স্ট্যালিন, সেই বিল নিয়েই এখন তিনি চূড়ান্ত বিরোধিতার কথা বলছেন না। বরং কেন্দ্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানলে ডিএমকে সমর্থনের কথাও ভাবতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সমর্থন না করলেও ভোটাভুটিতে অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সূত্রের খবর, ডিএমকের মূল দাবি একটাই লোকসভার আসন বৃদ্ধি যদি হয়, তবে তা যেন সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই সমান হারে, অর্থাৎ বর্তমান আসনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে করা হয়। এই আশ্বাস শুধু মৌখিক নয়, বিলের খসড়াতেই লিখিতভাবে উল্লেখ করতে হবে বলে চাইছে দল। সেই কারণেই খসড়া প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে চাইছেন না স্ট্যালিন।

আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধীদের প্রধান উদ্বেগ ছিল উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য। বিরোধীদের আশঙ্কা, শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়ানো হলে উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলি বেশি সুবিধা পাবে, আর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যাবে। যদিও কেন্দ্রের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, জনসংখ্যা নয়, শতাংশের ভিত্তিতেই আসন বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বিলে লিখিতভাবে না থাকায় বিরোধিতা তৈরি হয়েছিল।

ডিএমকে ও কংগ্রেসের সম্পর্কেও দূরত্ব বাড়ছে। সংসদে কংগ্রেসের থেকে আলাদা বসার আবেদন জানিয়েছে ডিএমকে। পাশাপাশি বিজেপির সঙ্গে দলটির যোগাযোগ নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বার্তাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জাতীয় রাজনীতিতে ডিএমকে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তববাদী কৌশল নিতে চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *