‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই’: মেয়ের বিচারের লড়াই- এ আত্মবিশ্বাসী অভয়ার মা রত্না দেবনাথ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, উত্তর ২৪ পরগণা:- মেয়ের মর্মান্তিক পরিণতির সুবিচার পেতে শেষ পর্যন্ত সক্রিয় রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছেন অভয়ার মা। বুধবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে পানিহাটি আসনের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ভোট দিলেন রত্না দেবনাথ। বুথ থেকে বেরিয়েই তাঁর দৃঢ় কণ্ঠস্বর, “আমরাই জিতছি, এবার বিচার হবেই।”
দেড় বছর আগে আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছিল বাংলাকে। বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়লেও আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি অভয়ার বাবা-মা। তাঁদের মতে, প্রকৃত সুবিচার এখনও অধরা। সেই আক্ষেপ থেকেই প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া।
পোশাকেই প্রতিবাদের ছাপ
এদিনও রত্না দেবনাথের পরনে ছিল তাঁর সেই পরিচিত প্রতিবাদের ভাষা। সাদা শাড়ির কালো পাড়ে স্পষ্টভাবে লেখা— ‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই’। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তিনি এলাকায় এলাকায় ঘুরে সুবিচারের সওয়াল করেছেন। আজ ভোট দিয়ে তিনি জানান, এলাকার মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সুবিচারের পক্ষেই রায় দেবেন বলে তিনি নিশ্চিত।
আক্ষেপ মাখা লড়াই
রত্না দেবনাথের স্বামী অর্থাৎ অভয়ার বাবাও এদিন বুথে উপস্থিত ছিলেন। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়ল বিষাদ। তিনি বলেন, “মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের জন্য আমাদের এই পথে হাঁটতে হচ্ছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবেই বিচার চেয়েছিলাম, কিন্তু আজ লড়াইটা ভোট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে জয় আমাদেরই হবে।”
পানিহাটি কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াইয়ে এই আবেগঘন প্রেক্ষাপট কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। তবে রত্না দেবনাথের এই ‘শিরদাঁড়া সোজা রাখা’র লড়াই যে পানিহাটির ভোটযুদ্ধে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে, তা অনস্বীকার্য।
