আজকের দিনেভারত

অবশেষে ইস্তফা সিদ্দারামাইয়ার, নতুন মসনদে ডিকে শিবকুমার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বেঙ্গালুরু: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটল। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৩ সালে কর্ণাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আড়াই বছরের মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী বদলের যে জল্পনা চলছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাতে সিলমোহর পড়ল।

প্রাতরাশ বৈঠকে ঘোষণা, সিদ্দার পা ছুঁয়ে প্রণাম ডিকের

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের বাসভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে একটি প্রাতরাশ বৈঠকে বসেন সিদ্দারামাইয়া। সেখানে ডিকে শিবকুমারও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই সিদ্দু (ঘনিষ্ঠ মহলে এই নামেই পরিচিত) আচমকা তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান এবং পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শিবকুমারের নাম অনুমোদন করেন। এই ঘোষণার পরই আবেগঘন মুহূর্তে প্রবীণ নেতার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন ডিকে শিবকুমার।

বৈঠক শেষে সিদ্দারামাইয়া রাজভবনে (লোকভবন) গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট পারিবারিক কারণে বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে থাকায়, সিদ্দু তাঁর পদত্যাগপত্রটি রাজ্যপালের সচিবের হাতে তুলে দেন। লোকভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, নিয়মানুযায়ী সচিবের হাতে চিঠি দেওয়া গেলেও পরে রাজ্যপাল সশরীরে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

‘হাইকমান্ডের নির্দেশে পদত্যাগ, ক্ষমতার লালসা নেই’: আবেগপ্রবণ সিদ্দু

ইস্তফা দেওয়ার পর বিকেল ৩টে নাগাদ একটি সংবাদ সম্মেলন করেন সিদ্দারামাইয়া। সেখানে কথা বলতে বলতে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই দলিত নেতা। তিনি বলেন,”দুদিন আগে কংগ্রেস হাইকমান্ড আমাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী আজ আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। দু’দফায় আমি কর্ণাটকের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, তার জন্য সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে ধন্যবাদ জানাই। আমি কোনোদিন টাকার পিছনে ছুটিনি, ক্ষমতার লালসাও করিনি।”

বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দিয়ে তিনি আরও জানান, সরকারের গ্যারান্টি প্রকল্পগুলির কারণে কর্ণাটকে কোনো আর্থিক ঘাটতি হয়নি, বরং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটা বড় অংশ তাঁরা পূরণ করতে পেরেছেন।

ফিরিয়ে দিলেন রাজ্যসভার প্রস্তাব, রাজ্যেই থাকার সিদ্ধান্ত

সূত্র মারফত জানা গেছে, কর্ণাটকের কুর্সি থেকে সরালেও সিদ্দারামাইয়াকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বড় দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রস্তাবের কথা স্বীকার করে নিয়ে প্রবীণ এই নেতা স্পষ্ট জানান, তিনি দিল্লির রাজনীতিতে যেতে অনিচ্ছুক।

তাঁর কথায়, “আমাকে রাজ্যসভায় যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু আমি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। জাতীয় রাজনীতিতে যাওয়ার আমার কোনো ইচ্ছা নেই। রাজ্যের মানুষ আমাকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন, এখনও ২ বছর বাকি আছে। আমি কর্ণাটকের মাটিতে থেকে এ রাজ্যের হয়েই কাজ করে যাব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *