২৩ জুন থেকে শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ: উচ্চশিক্ষামন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে রাজ্যজুড়ে চর্চা হোক এবং তাঁর প্রকৃত ইতিহাস মানুষের সামনে আসুক— এটাই চাইছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার। শুক্রবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনে যোগ দিয়ে এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর এদিনই প্রথম এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখেন তিনি। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশিকায় এবার ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে সমস্ত স্কুল-কলেজে সাড়ম্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হচ্ছে।
পূর্বতন সরকারকে তীব্র কটাক্ষ মন্ত্রীর
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ শতবার্ষিকী হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। তিনি বলেন: “এতদিন ইতিহাসকে চেপে রেখে মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে। কিন্তু এবার আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। আসল ইতিহাস মানুষ জানতে চাইছে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা না থাকলে আজ হয়তো পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হত।” জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তার পীঠস্থান। তাই এখানে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে ডান-বাম সব পক্ষের মধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে খোলসা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
উপাচার্যের অকপট স্বীকারোক্তি
এদিনের অনুষ্ঠানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম প্রাক্তন উপাচার্য ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ভূমিকা ছিল।
রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’
পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের পাশাপাশি রাজ্য সরকার আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জানান, আগামী ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত সমগ্র রাজ্যজুড়ে বিশেষ ভাবে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়কালের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলার গঠনে তাঁর অবদানকে আমজনতা ও ছাত্রসমাজের কাছে তুলে ধরা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর শিক্ষাক্ষেত্র ও পাঠ্যক্রমে বাংলার প্রকৃত ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই রাজ্য সরকার এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
