আজকের দিনেবিশ্ব

Security Lapses : নিরাপত্তার গলদেই খামেনেইয়ের মৃত্যু, চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর — ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ইরানের প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যার পেছনে নিরাপত্তা ব্যর্থতাই দায়ী। এই প্রথমবার ইরানের কোনও শীর্ষ কর্তা প্রকাশ্যে এমন স্বীকারোক্তি দিলেন। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, হামলাকারীদের কাছে খামেনেইয়ের রুটিন থেকে বৈঠকের জায়গা পর্যন্ত সব খুঁটিনাটি তথ্য ছিল। আর এর পেছনে মোসাদের গভীর অন্তর্ঘাতের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার ইরানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “হামলাকারীদের কাছে খামেনেইয়ের দৈনন্দিন রুটিন, তাঁর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের স্থান এবং খুঁটিনাটি গোয়েন্দা তথ্য ছিল। যার উপর ভিত্তি করেই হামলাকারীরা নিখুঁতভাবে তাঁকে হত্যার নীল নকশা বানায়।”
তাঁর কথায়, “ওরা জানত যে সর্বোচ্চ নেতা প্রতিদিন সকালে তাঁর কার্যালয়েই থাকেন। হামলার সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক চলছিল। নিরাপত্তা গলদের কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই গলদ এখনও রয়েছে।”

ইরান সূত্রের দাবি, খামেনেইয়ের হত্যার নিখুঁত জাল বুনেছিল ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। অভিযোগ, ইরানের প্রাক্তন সুপ্রিম লিডারের ঘনিষ্ঠবৃত্তের পরতে পরতে চর ঢুকিয়ে রেখেছিল মোসাদ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ — দাঁতের ডাক্তার সেজে মোসাদের চরেরা খামেনেই-ঘনিষ্ঠ সেনা আধিকারিক ও সরকারি কর্তাদের দাঁতে ‘ট্র্যাকিং চিপ’ লাগিয়ে দিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তাদের গতিবিধি নজরে রেখে খামেনেইয়ের আস্তানার ঠিকানা পাওয়া।

তেহরান ইতিমধ্যেই কীভাবে মোসাদ এই অভিযান চালাল তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইরান।

আরাঘচির এই স্বীকারোক্তির পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে। “সর্ষের মধ্যেই ভূত” — এই আশঙ্কা এখন তেহরানের অন্দরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। মোসাদের এই অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব সত্যি হলে ইরানের গোয়েন্দা ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *