সন্দেশখালির ছায়া কেরলে: বিজয়নের বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়ে আক্রান্ত ইডি, গাড়ি ভাঙচুর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, তিরুবনন্তপুরম: ২০২৪ সালে রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গের সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। ঠিক সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটল এবার কেরলে। বুধবার কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়নের ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উত্তেজিত বাম কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়লেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের গাড়ি ঘিরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি পাথর, হেলমেট ও প্লাস্টিকের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে সিপিএমের বিরুদ্ধে।
ভোর থেকেই রণক্ষেত্র তিরুবনন্তপুরম
বিজয়ন-কন্যা বীণা টি-র তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-এর সঙ্গে ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (CMRL)-এর ১.৭২ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলার তদন্তে বুধবার ভোরে তিরুবনন্তপুরমের বেকারি জংশন এলাকায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাড়া বাড়িতে হানা দেয় ইডি।
খবর চড়াও হতেই বাড়ির সামনে জড়ো হন শয়ে শয়ে সিপিএম কর্মী-সমর্থক। কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে তুলতে আচমকাই তাঁরা ইডি অফিসারদের গাড়ি লক্ষ্য করে চড়াও হন। বাঁশ, লোহার রড ও থান ইট দিয়ে গাড়ির কাচ ও উইন্ডস্ক্রিন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গাড়ির ভেতরে থাকা মহিলা আধিকারিক-সহ বেশ কয়েকজন অফিসার আতঙ্কে সিঁটিয়ে যান। পরে সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কী এই ‘সিএমআরএল’ দুর্নীতি?
অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রভাব খাটিয়ে বেসরকারি খনিজ উৎপাদনকারী সংস্থা ‘সিএমআরএল’ কোনো রকম পরিষেবা না নিয়েই বিজয়ন-কন্যার সংস্থাকে ১.৭২ কোটি টাকা পাইয়ে দিয়েছিল। এই কর্পোরেট জালিয়াতি ও আড়াই কোটি টাকার অস্বচ্ছ লেনদেনের তদন্ত করছে ইডি ও এসএফআইও। মঙ্গলবারই কেরল হাইকোর্ট এই তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশের আর্জি খারিজ করার পরই কড়া অ্যাকশনে নামে ইডি।
‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, পাল্টা তোপ বামেদের
চলতি মাসেই বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটের কাছে ক্ষমতা হারিয়েছে সিপিএম। তার পরেই এই হানাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে তোপ দেগেছেন পিনারাই বিজয়ন ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেবি বলেন, “এই অভিযানের পিছনে যে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, তা জনগণের সামনে আমরা প্রমাণ করে দেব।” অন্যদিকে বিজয়নের দাবি, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
