তৃণমূলে বিদ্রোহ: নাম-প্রতীকও হারাতে পারেন মমতা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- শুধু ভাঙন নয়, এবার দলের নাম ও প্রতীকও হাতছাড়া হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে কমিশনে যাচ্ছে বিদ্রোহী শিবির। নতুন সভাপতি হচ্ছেন প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী।
বিদ্রোহী শিবির সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করেই নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ-সহ পদাধিকারী বাছাইয়ের কাজ চলছে। রাজ্যের প্রাক্তন এক ক্যাবিনেট মন্ত্রী, যিনি মমতার ‘কিচেন ক্যাবিনেটের’ সদস্য ছিলেন, তাঁকেই সভাপতি করা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই ‘প্রকৃত তৃণমূলের’ স্বীকৃতি চেয়ে কমিশনে চিঠি যাবে। তবে কোন নাম প্রকাশে আনা হয়নি ।
এরই মধ্যে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধে সোমবার হাইকোর্টে মামলা করেছেন বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টে ১১ জুন, বৃহস্পতিবার শুনানির সম্ভাবনা। কালীঘাট ঘনিষ্ঠ নেতাদের আশঙ্কা, মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে যেভাবে একনাথ শিন্ডে ‘অফিশিয়াল শিবসেনা’র নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন, জোড়াফুলেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কমিশন পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়।
বিধানসভা থেকে লোকসভা সর্বত্রই ভাঙনের ছবি স্পষ্ট। ঋতব্রতর নেতৃত্বে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এখন মমতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কলকাতা পুরসভা-সহ বহু পুরসভার কাউন্সিলরও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ইতিমধ্যেই স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে চিঠি দিয়েছেন। সোমবার বিধানসভায় ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন ঋতব্রত। ফিরহাদ ‘নো কমেন্টস’ বললেও ঋতব্রত জানান, ‘ববিদার সঙ্গে আলাদা কথাও হয়েছে’। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়ক শামিম আহমেদও ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করেছেন।
এই নজির ভারতবর্ষের রাজনীতিতে আগেও রয়েছে। অতীতে সিপিআই ভেঙে সিপিএম হওয়ার সময় ‘কাস্তে ধানের শিষ’ রেখেছিল সিপিআই, সিপিএম পায় ‘কাস্তে হাতুড়ি তারা’। কংগ্রেস ভাঙনের পর ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস পেয়েছিল ‘জোড়া বলদ, গাই-বাছুর’ প্রতীক। এবার তৃণমূলেও সেই আশঙ্কা। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, মমতাকে ভুল ফিডব্যাক দেওয়া হয়েছে। ‘এতজন ক্ষুব্ধ, নেতৃত্ব জানতে পারেননি?’ প্রশ্ন তাঁর। মন্ত্রী তাপস রায় কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘শিসা হো ইয়া দিল হো, আখির টুট জাতা হ্যায়’।
বিধানসভা থেকে লোকসভা, পুরসভা থেকে সংসদ— সর্বত্রই ভাঙনের মুখে তৃণমূল। সংখ্যার জোরে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ হিসেবে বৈধতা পেয়ে গেলে নাম ও প্রতীক দুটোই হারাতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
