রাজ্য রাজনীতিতে এখন নায়ক ‘পচা ডিম’
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- এখন হট সিটে অবস্থান করছে ‘পচা ডিম’। কারণ এখন মানুষ তাঁর রাগ, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে ডিম দিয়ে। কাজেই ডিমের চাহিদা এখন তুঙ্গে! রাজ্যে ভোট প্রচারের সময় থেকে প্রাক্তন শাসক দলের আস্ফালন ছিল আকাশছোঁয়া। ৪ মে’র পর ডিজে বাজানোর কথা বলেছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের রেজাল্ট বের হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে সেই চেনা সুরটাই এখন বদলে গেছে। মাতব্বর থেকে শুরু করে একসময় দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাদের গলায় এখন মিনমিনে সুর।
দলের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন দলের একদা মমতা ঘনিষ্ঠরাই। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বর্তমানে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেত্রীর গলাতেও ক্ষোভের সুর। সাংবাদিক দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এতগুলি মানুষ গ্রেফতার হচ্ছেন, উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তাদের বাঁচাতে পারছেন? একজন নেত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব নেওয়া তো উচিত। রাজ্য রাজনীতিতে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ গিয়ে পড়ছে নেতা মন্ত্রীদের উপরে। আর সেই ক্ষোভ পচা ডিম ছুঁড়ে বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। ২০০১ সালে মুক্তি পেয়েছিল বলিউডের জনপ্রিয় ছবি ‘জোড়ি নাম্বার ওয়ান’ সেখানে একটি গান ছিল ‘আও শিখায়ে আন্ডে কা ফান্ডা”। কাজেই সেই ডিম এখন তাঁর ফান্ডা দেখাচ্ছে। সম্প্রতি দলীয় কর্মীকে দেখতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর দিকে ধেয়ে আসে শয়ে শয়ে পচা ডিম। তাঁর শরীরে ডিম মাখামাখি। কোনওরকমে হেলমেট পরে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে রেহাই মেলে তাঁর। মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়তে থাকে। এর পরেও ফের ডিম ধেয়ে আসব আসব করছিল তৃণমূলের জয়প্রকাশের দিকে। কিন্তু সেই ডিম আতঙ্কের ভয়ে তিনি আর গাড়ি থেকেই নামলেন না। প্রায় করজোরে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘যা অবস্থা দেখছি আমি আনব না, আমাকে প্লিজ জোর করবেন না’। গতকালই থানা থেকে বের হওয়ার পরেই পচা ডিম ধেয়ে আসতে থেকে সব্যসাচী দত্তর দিকে। দোর্দণ্ডপ্রতাপ সব্যসাচীকে গতকাল বিধ্বস্ত লাগছিল। থানার বাইরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ধেয়ে আসে ডিম। ত্রাণ দুর্নীতি গতকাল গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশাস। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়, একটি চেয়ারে অসহায় বসে আছেন তিনি। আর তাঁর সামনে মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ফের এন্ট্রি নিয়েছে সেই ডিম। মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ছে, কপালে, জামায় সেই ডিম ফেটে একাকার। ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লাও পার পায়নি। গ্রেফতারের সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ডিম।
