আজকের দিনেখেলা

প্রয়াত ভারতের শুটিং কিংবদন্তি যশপাল রানা, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ভারতীয় শুটিং জগতে নক্ষত্রপতন। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে অকালে প্রয়াত হলেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী কিংবদন্তি শুটার ও সফল কোচ যশপাল রানা। মিউনিখ বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার দিল্লির হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

যশপালের ভাই সুভাষ রানার কথায়, প্রথমে বুকের অস্বস্তিকে অম্বল ভেবেছিলেন যশপাল। কিন্তু দেশে ফেরার পথে সমস্যা বাড়তে থাকে। দিল্লিতে নামার পর তাঁকে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা হৃদ্যন্ত্রে ব্লকেজ ধরা পড়ার পর একটি স্টেন্ট বসান। আরও একটি বসানোর প্রস্তুতিও চলছিল। প্রথম দিকে শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবর মিললেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হল না।

১৯৭৬ সালের ২৮ জুন উত্তরাখণ্ডে জন্ম যশপাল রানার। ১৯৯৪ সালে মিলানে বিশ্ব শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে জুনিয়র বিভাগে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি পান। একই বছর এশিয়ান গেমসে ২৫ মিটার সেন্টার ফায়ার পিস্তল ইভেন্টে সোনা জয় করেন। কমনওয়েলথ গেমসে তাঁর ঝুলিতে ৯টি সোনা-সহ ১৫টি পদক। ২০০৬ দোহা এশিয়ান গেমসে তিনটি সোনা জিতে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেন। ১৮ বছর বয়সে অর্জুন পুরস্কার এবং তিন বছর পরে পদ্মশ্রী-তে সম্মানিত হন।

প্রতিযোগিতামূলক শুটিং থেকে অবসরের পর ২০১২ সালে জাতীয় কোচিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর হাত ধরেই উঠে এসেছেন সৌরভ চৌধুরী, অনীশ ভানওয়ালার মতো শুটার। প্যারিস অলিম্পিকে মনু ভাকরের দুটি ব্রোঞ্জ জেতার পিছনে রানার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০২০ সালে কোচিংয়ে অবদানের জন্য দ্রোণাচার্য পুরস্কার পান। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় রাইফেল সংস্থা তাঁকে ২৫ মিটার পিস্তল বিভাগের হাই-পারফরম্যান্স কোচ নিয়োগ করে।

তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘শ্রী যশপাল রানা জির প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য এটি এক বিরাট ক্ষতি। শুটিংয়ে তাঁর অসাধারণ সাফল্য দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছে। একইসঙ্গে একজন মেন্টর হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে বহু তরুণ ক্রীড়াবিদকে গড়ে তুলেছেন।’

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় শুটিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন যশপাল রানা। শুটার হিসেবে দেশকে এনে দিয়েছেন গৌরব, কোচ হিসেবে তৈরি করেছেন নতুন প্রজন্ম। তাঁর অকাল প্রয়াণে ভারতীয় ক্রীড়াজগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল। রেখে গেলেন সাফল্যের পরিসংখ্যানের থেকেও বড় এক উত্তরাধিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *