আজকের দিনেঅন্যান্যবিশ্ব

২০২৬-এর ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী! বিজ্ঞানীদের গবেষণার আড়ালে লুকিয়ে কোন রহস্য?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- প্রতি বছরই কোনো না কোনো উড়ো খবরের ওপর ভিত্তি করে ‘পৃথিবী ধ্বংস’ হয়ে যাওয়ার গুজব রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভয়ঙ্কর দাবি মারাত্মকভাবে ভাইরাল হচ্ছে, যা দেখে বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হচ্ছে— বিজ্ঞানীরা নাকি বহু বছর আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসেই নাকি ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের এই চেনা পৃথিবী!

স্বভাবতই এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই পুরোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও গাণিতিক মডেলটি গভীরভাবে পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে এসেছে আসল সত্যি।

কী দাবি করা হচ্ছে ভাইরাল পোস্টে?

ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে সুনির্দিষ্ট একটি তারিখ উল্লেখ করে বলা হচ্ছে— ২০২৬ সালের ১৩ই নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।

আসল সত্যিটা কী?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই শোরগোলের নেপথ্যে রয়েছে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত একটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী বৈজ্ঞানিক গবেষণা। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হাইঞ্জ ফন ফোয়েস্টার , প্যাট্রিসিয়া মোরা এবং লরেন্স অ্যামিওট  বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালিয়েছিলেন।

তাঁরা বিগত প্রায় ২,০০০ বছরের জনসংখ্যার খতিয়ান ও ডেটা পর্যালোচনা করে একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেন। সেই মডেলে দেখানো হয়েছিল, জনসংখ্যা যদি তৎকালীন জ্যামিতিক হারে এবং অনিয়ন্ত্রিত গতিতে বাড়তে থাকে, তবে ২০২৬ সালের ১৩ই নভেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা কিন্তু কখনোই বলেননি যে ২০২৬ সালে কোনো মহাপ্রলয় ঘটবে বা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁরা মূলত একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হবে। যার ফলে তীব্র খাদ্য সংকট, চরম জনবসতি, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। অর্থাৎ, এটি ছিল ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’ নিয়ে একটি গাণিতিক সতর্কতা, পৃথিবী ধ্বংসের কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

বর্তমান পরিস্থিতি কেমন?

১৯৬০ সালের সেই গবেষণার পর থেকে বর্তমান পৃথিবীর সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে:

  • জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি মন্থর: বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) অতিক্রম করলেও, জনসংখ্যা বৃদ্ধির আসল গতি বা হার আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে।

  • জাতিসংঘের রিপোর্ট: জাতিসংঘের তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যা ২০৮০ সালের দিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাবে এবং তারপর থেকে এটি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে শুরু করবে। ফলে ১৯৬০ সালের সেই গাণিতিক মডেলটির আশঙ্কা বর্তমান বাস্তবতায় খাটছে না।

বৈজ্ঞানিক মতে পৃথিবী ধ্বংসের প্রকৃত সময় কবে?

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা জানাচ্ছে, পৃথিবীর আয়ু এখনই ফুরিয়ে যাচ্ছে না। প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) বছর পর সূর্যের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে পৃথিবীর অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে, সমুদ্রের জল শুকিয়ে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেতে পারে যা মানুষের বেঁচে থাকার প্রতিকূল হবে। তবে মানব সভ্যতার টাইমলাইনের নিরিখে সেই সময়কাল এখনও কোটি কোটি বছর দূরে।

তাই সোশ্যাল মিডিয়ার এই ‘১৩ই নভেম্বর ২০২৬’-এর পৃথিবী ধ্বংসের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি পুরোনো গবেষণার ভুল ব্যাখ্যা মাত্র। অবৈজ্ঞানিক এই গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *