আজকের দিনেতিলোত্তমা

যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের সামনে তুলকালাম, হাতাহাতিতে জড়ালেন অভিভাবকরাই

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ সাতসকালে ধুন্ধুমার দক্ষিণ কলকাতার নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলে। স্কুলেরই এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম ভেঙে প্রাইভেট টিউশন পড়ানো এবং অভিভাবকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগে সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্কুল চত্বর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিক্ষোভকারী অভিভাবকরা নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতি ও বচসায় জড়িয়ে পড়েন। শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে নামাতে হয় পুলিশ।

মূল ক্ষোভ যেখানে:

সরকারি কড়া নির্দেশিকা রয়েছে যে, কোনো সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক প্রাইভেট টিউশন পড়াতে পারবেন না। অভিভাবকদের অভিযোগ, সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের এক শিক্ষক রমরমিয়ে প্রাইভেট টিউশন চালাচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, পড়ুয়াদের জোর করে তাঁর কাছেই টিউশন পড়তে বাধ্য করা হচ্ছিল এবং এর জন্য অভিভাবকদের ওপর লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের মর্নিং সেকশনের ইনচার্জের বিরুদ্ধেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আজ সকালে স্কুলের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

দ্বিমুখী লড়াই ও শিক্ষকদের ওপর চড়াও:

সকালে বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। সূত্রের খবর, উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক বিক্ষোভকারী অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন। সেই সময় উত্তেজিত অভিভাবকদের একাংশ এক শিক্ষকের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।

শিক্ষকের ওপর এভাবে তেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘিরেই উপস্থিত অভিভাবকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। অভিভাবকদের আরেকটি অংশ শিক্ষকের ওপর চড়াও হওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু কোনো শিক্ষকের সঙ্গে এমন অসভ্য আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। এই নিয়ে দুই পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যেই তুমুল বচসা এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ:

স্কুলের সামনে এই চরম বিশৃঙ্খলার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লেক থানার পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে বিক্ষোভকারী ও প্রতিবাদী—উভয় পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গেই কথা বলে। স্কুলের পঠনপাঠনের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, তা বুঝিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পুলিশের দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা এবং শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন যোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *