রাহুলের রহস্যমৃত্যুতে এবার অ্যাকশনে ওড়িশা পুলিশ, ৫ অভিযুক্তকে সমন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার তদন্তের জাল গোটাচ্ছে ওড়িশা পুলিশ। তালসারিতে শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’ ও ‘অনিচ্ছাকৃত খুনের’ অভিযোগে উত্তাল টলিউড। এই পরিস্থিতিতে এবার ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’-এর শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। গত ৫ এপ্রিল রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ওড়িশার তালসারি মেরিন থানায় এফআইআর দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী এবং ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠিয়েছে পুলিশ। তালসারি মেরিন থানার আইআইসি শ্রবণ মহারানা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। যদি তাঁরা হাজিরা না দেন, তবে তদন্তের স্বার্থে ওড়িশা পুলিশের একটি বিশেষ দল কলকাতায় রওনা দেবে।
কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানার পর ওড়িশায় দ্বিতীয় দফায় এফআইআর দায়ের করেন প্রিয়াঙ্কা। ৫ এপ্রিল রাতে যখন তিনি তালসারিতে অভিযোগ জানাতে যান, তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যীশু সেনগুপ্ত ও সৌরভ দাসের মতো টলি-তারকারা। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো:
-
অনিচ্ছাকৃত খুন ও ষড়যন্ত্র: ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১০৬ (১), ২৪০ ও ৩ (৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
-
বিপজ্জনক শুটিং স্পট: চোরাবালির সমুদ্র সৈকতে শুটিং করার আদৌ অনুমতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
-
তথ্যাদি গোপন: ঘটনার পর ইউনিটের সদস্যদের বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় ‘ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গোটা টলি-ইন্ডাস্ট্রি। শুটিং ইউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একজোটে সরব হয়েছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও কেন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হলো না, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এবার ওড়িশা পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপ অভিযুক্তদের ওপর চাপ আরও বাড়াল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, সমন পেয়ে অভিযুক্তরা ওড়িশায় হাজিরা দেন নাকি ওড়িশা পুলিশকেই কলকাতা পাড়ি দিতে হয়।
