আজকের দিনেভারত

টিসিএস কাণ্ডে গ্রেপ্তার এড়াতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণ দেখিয়ে জামিন চাইলেন নিদা খান

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নাসিক: ভারতের তথ্য-প্রযুক্তি জগতের অন্যতম নক্ষত্র টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের  নাসিক কেন্দ্রে ধর্মান্তরণ ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই কাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত এইচআর কর্মী নিদা খান বর্তমানে পলাতক। তবে গ্রেপ্তার এড়াতে এবার অজ্ঞাতবাস থেকেই আদালতের দ্বারস্থ হলেন তিনি।

শারীরিক অসুস্থতা ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি

পুলিশি সূত্রের খবর, নিদা খান বর্তমানে মুম্বইয়ের কোনও এক গোপন ডেরায় গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। সেখান থেকেই আইনজীবী মারফত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেছেন। আবেদনে নিদা দাবি করেছেন যে, তিনি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন। এই ‘মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে’ই তিনি গ্রেপ্তারি থেকে রেহাই চেয়েছেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, নিদা খান সংস্থায় টেলিকলার হিসেবে যোগ দিলেও কার্যক্ষেত্রে এইচআর প্রধানের ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর বিরুদ্ধেই মূলত মহিলা কর্মীদের ধর্মান্তরণে বাধ্য করার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

টিসিএস-এ কী ঘটেছিল?

নাসিকের টিসিএস কেন্দ্রে কর্মরত কমপক্ষে ৯ জন মহিলা কর্মী বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁদের দাবি:

  • জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ: ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী মহিলা কর্মীদের ভালো বেতন ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দেওয়া হতো।

  • ধর্মীয় আচার পালন: হিন্দু কর্মীদের জোর করে আমিষ খাবার খাওয়ানো, নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং রোজা রাখার জন্য চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

  • যৌন ও মানসিক হেনস্তা: গত দুই-তিন বছর ধরে এই ‘কর্পোরেট জেহাদ’ বা পরিকল্পিত ধর্মান্তরণ চক্র কাজ করছিল। রাজি না হলে চলত চরম মানসিক ও যৌন হেনস্তা।

মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরিশ মহাজন এই প্রসঙ্গে দাবি করেছেন, “সংস্থার কয়েকজন পদস্থ মুসলিম আধিকারিক চাকরির টোপ দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করত এবং তাঁদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিত।”

সুপ্রিম কোর্টে মামলা ও পুলিশের তৎপরতা

নাসিক পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয়জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন: ১. আসিফ আনসারি ২. শফি শেখ ৩. শাহরুখ কুরেশি ৪. রাজা মেমন ৫. তৌসিফ আত্তার ৬. অশ্বিন চাইনানি

এদিকে, বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। শীর্ষ আদালতে দাখিল করা একটি জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছে, এই ধরণের অবৈধ ধর্মান্তরণ ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের’ সমতুল্য। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি যাতে এ বিষয়ে কঠোর আইন ও ব্যবস্থা নেয়, সেই আর্জি জানানো হয়েছে।

ভারতখ্যাত একটি আইটি সংস্থায় এমন নারকীয় ঘটনার অভিযোগ ওঠায় সংস্থার ভাবমূর্তি বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নাসিক পুলিশ জানিয়েছে, নিদা খান সহ বাকি পলাতকদের ধরতে তল্লাশি জারি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *