আজকের দিনেতিলোত্তমা

অযোগ্য শিক্ষকদের বেতন ফেরাতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ নবান্নের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল নতুন সরকার। সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই এবার শিক্ষা দপ্তরের দুর্নীতির জট খুলতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যারা কারচুপি বা সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে এবার সুদ-সহ বেতন আদায় করতে সক্রিয় হলো স্কুল শিক্ষা দপ্তর।
​জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ
​স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারির তরফে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ২০১৬ সালের প্যানেলে অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাওয়া অযোগ্যদের বেতন ফেরত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। ​শিক্ষা দপ্তরের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্যদের বেতন ফেরানোর রায় দিলেও বিগত সরকার তা কার্যকর করেনি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই সেই আইনি নির্দেশ পালনে তৎপরতা শুরু করল।
কারা আছেন এই তালিকায়?
​বিগত কয়েক বছরে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছিল, তাতে দেখা গিয়েছিল-
সাদা ওএমআর শিট : ১৮০৬ জন শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছিল যারা প্রায় ফাঁকা খাতা জমা দিয়েও চাকরি পেয়েছিলেন।
​অবিশ্বাস্য মেধা: এক পরীক্ষার্থী মাত্র ১২টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েও ভূগোলের মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন।
রাজনৈতিক যোগ: অযোগ্যদের তালিকার সিংহভাগই ছিল তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের আত্মীয়স্বজন।
​২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট মোট ২৫,৭৩৫ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৮,৪১৮ জন ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকা।
​ঘুম উড়েছে চিহ্নিত অযোগ্যদের
​শিক্ষা দপ্তরের এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাগুলিতে। যদিও কীভাবে বা কোন পদ্ধতিতে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন এখনও প্রকাশ করেনি সরকার। তবে নবান্নের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিল যে, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত নিতে এবার কোনো আপস করা হবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙার যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া হয়েছিল, বেতন ফেরানোর এই নির্দেশ সেই পথেই প্রথম বড় পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *