আজকের দিনেতিলোত্তমা

মোদির ‘সাশ্রয়’ মন্ত্রে কনভয় ছেড়ে বাসে চেপে বিধানসভায় বিধায়করা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম ও দেশের আর্থিক চাপ কমাতে কৃচ্ছ্রসাধনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই নির্দেশকে শিরোধার্য করে বুধবার এক অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কলকাতা। বিধানসভায় শপথ নিতে যাওয়ার পথে নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি বা কনভয় ছেড়ে সরকারি বাসে সওয়ার হলেন বিজেপি বিধায়করা।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও পদক্ষেপ
​গত রবিবার তেলেঙ্গানার এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জ্বালানি সংরক্ষণের আবেদন জানান। তিনি বলেন, “পেট্রল-ডিজেলের জন্য ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।” শুধু মুখে বলা নয়, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নজির গড়েছেন।  ​নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। নিরাপত্তার প্রোটোকল বজায় রেখেও এসপিজি-কে গাড়ি কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
​কনভয়ে নতুন গাড়ি না কিনে বর্তমানে থাকা বৈদ্যুতিন গাড়ি  ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।
বিধানসভায় বাসে চড়ে বিধায়করা
​প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার প্রভাব সরাসরি পড়ল বুধবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। এদিন উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদের জেলাগুলি মিলিয়ে মোট ১৫২ জন বিধায়কের শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিধায়ক হস্টেল থেকে বিধানসভা যাওয়ার জন্য সাধারণত বিধায়কদের জন্য বাস বরাদ্দ থাকে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে আজ দেখা গেল উল্টো ছবি। মোদির নির্দেশ মেনে সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারিবদ্ধভাবে বাসে চেপেই বিধানসভায় পৌঁছালেন তাঁরা।
​রাজ্যেও কি কনভয় ছাঁটাই?
​বিজেপি শাসিত রাজ্য যেমন মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীরা ইতিপূর্বেই নিজেদের কনভয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি দিল্লির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা মেট্রো বা ই-রিকশায় যাতায়াত করছেন। সূত্রের খবর, দিল্লির এই ‘সাশ্রয় মডেল’ অনুসরণ করতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে তিনি রাজ্যে এক নতুন বার্তা দিতে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে।
আজকের শপথগ্রহণ এক নজরে
​প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে আজ প্রথমার্ধে শপথ নিলেন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জয়ী প্রার্থীরা। জ্বালানি সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিধায়করা জানান, দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর এই দিশারি পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
​আগামীকাল বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির বিধায়কদের শপথগ্রহণ রয়েছে, সেখানেও এই ‘বাস যাত্রা’র পুনরাবৃত্তি দেখা যায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *