আজকের দিনেবিশ্বভারত

কারনি-মোদি সাক্ষাতে ঐতিহাসিক মউ সাক্ষর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- ভারত এবং কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি-র মধ্যে দিল্লিতে আয়োজিত এক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক ইউরেনিয়াম চুক্তি বা মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

​এই চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

​১. ঐতিহাসিক ইউরেনিয়াম চুক্তি

​কানাডা ভারতকে দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি বড় চুক্তি করেছে। সাসকাচোয়ান-ভিত্তিক সংস্থা Cameco-র সাথে ভারতের এই চুক্তিটি হয়েছে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর অধীনে ২০২৭ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কানাডা ভারতকে প্রায় ২২ মিলিয়ন পাউন্ড ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক।

​২. জ্বালানি ও খনিজ খাতে সহযোগিতা

​ইউরেনিয়াম ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বা কৌশলগত জ্বালানি অংশীদারিত্ব শুরু হয়েছে। এর আওতায়:

​লিথিয়াম এবং কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহে কানাডা ভারতকে সাহায্য করবে।

​স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর এবং উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশ একসাথে কাজ করবে।

​নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সৌর শক্তি নিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

​৩. বাণিজ্যের নতুন লক্ষ্যমাত্রা

​২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন মোদি ও কারনি। এছাড়াও, এই বছরের শেষ নাগাদ একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারেও দুই দেশ একমত হয়েছে।

​৪. সম্পর্কের নতুন মোড়

​গত কয়েক বছরে ভারত ও কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির এই সফর এবং এই বিপুল অঙ্কের চুক্তি সেই বরফ গলিয়ে সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মোদি এই সফরকে “পারস্পরিক আস্থা ও ইতিবাচকতার নতুন শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *