আজকের দিনেখেলাতিলোত্তমা

মেসির নজিরবিহীন হ্যাটট্রিক, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপকে খোঁচা শতদ্রুর!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: একদিকে ফুটবল বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির একের পর এক বিশ্বরেকর্ড ভাঙার ইতিহাস, আর অন্যদিকে সেই মেগা তারকাকে ঘিরেই বাংলার রাজনীতি ও আইনি মহলে তুমুল শোরগোল। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই ‘মেসি কাণ্ড’ নিয়ে আইনি জটে জর্জরিত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বারবার পুলিশি হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি, বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় তা-ও অজানা। এই রহস্যময় অন্তর্ধানের আবহে এবার বিশ্বমঞ্চে মেসির রেকর্ড হ্যাটট্রিকের পর প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ করলেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত।

​বিশ্বকাপে মেসির জোড়া রেকর্ড, টপকালেন এমবাপে-রোনাল্ডোকে
​বুধবার ফুটবল মাঠে ফের একবার জাদু দেখালেন লিওনেল মেসি। কিলিয়ান এমবাপে, গার্ড মুলার এবং রোনাল্ডো নাজারিও-র মতো কিংবদন্তিদের পিছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে পড়েছেন এলএম১০। একই সঙ্গে ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজের বিশ্বকাপে করা সর্বোচ্চ ১৬টি গোলের মহাকীর্তিও।
​আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল মেসির ১১ নম্বর হ্যাটট্রিক। শুধু তাই নয়, ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে এই হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার এক অনন্য নজিরও গড়লেন ফুটবলের এই জাদুকর।

​“পাড়ার পল্টু হ্যাটট্রিক করেছে, এবার বেরিয়ে আসুন”, শতদ্রুর পোস্টে হাসির রোল
​মেসির এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পরই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন কলকাতার নামী ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ‘বেপাত্তা’ হয়ে থাকার বিষয়টিকে কটাক্ষ করে শতদ্রু ফেসবুকে লেখেন, “অরূপদা, আপনার পাড়ার পল্টু হ্যাটট্রিক করেছে, এবার তো বেরিয়ে আসুন।”
​মুহূর্তের মধ্যে এই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায় এবং কমেন্ট বক্সে হাসির রোল ওঠে। শতদ্রুর পোস্টে টিপ্পনি কেটে এক নেটিজেন লেখেন, “আসুন (অরূপদা), কাঁধে হাত রেখে ছবি তুলতে হবে তো!” অন্য এক ফুটবলপ্রেমীর খোঁচা, “অরূপদার ছোঁয়া পেয়েই বোধহয় এই হ্যাটট্রিক!”

কী এই ‘মেসি কাণ্ড’? কেন বেপাত্তা প্রাক্তন মন্ত্রী?
​এই চরম কটাক্ষের নেপথ্যে রয়েছে গত ডিসেম্বর মাসের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা। শতদ্রু দত্তর উদ্যোগেই কলকাতায় পা রেখেছিলেন লিওনেল মেসি। তাঁকে একঝলক দেখতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চড়া দামে টিকিট কেটে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু চূড়ান্ত অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেডিয়াম ছাড়তে বাধ্য হন মেসি। ক্ষুব্ধ দর্শকরা স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল, খোদ তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ‘গা জোয়ারি’ এবং প্রভাব খাটানোর কারণেই এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। মেসির সঙ্গে মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের ভূরি ভূরি ছবি-ভিডিও সোশ্যালে ছড়িয়ে পড়লেও, চরম অব্যবস্থার দায়ে পুলিশ উল্টে গ্রেপ্তার করে উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে।
​জামিনে ছাড়া পেয়েই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্ফোরক অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন শতদ্রু। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলেছে। হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশি হাজিরা এড়াচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। আইনি চাপ ও রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে অরূপ বিশ্বাস যখন কার্যত ‘নিখোঁজ’, তখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শতদ্রুর এই ‘পল্টুদা’ খোঁচা রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে নতুন করে চর্চার জ্বালানি জুগিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *