আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা যোজনা: দুই প্রকল্পের তফাৎ জানেন ?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- বিধানসভায় বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় নতুন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেটের জবাবি ভাষণে তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প এবং বর্তমান সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মূল দর্শনের মধ্যে একটি মৌলিক ফারাক রয়েছে। তাঁর মতে, নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি অর্থ কেবল সেইসব মানুষের হাতেই পৌঁছে দেওয়া, যাঁদের সত্যিই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে আয় বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনও কার্যকর বাছাই পদ্ধতি ছিল না। ফলে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে এমন মানুষও সরকারি অনুদান পেয়েছেন, যাঁদের এই সহায়তার কোনও প্রয়োজন ছিল না। সরকারি অর্থ যে সীমিত, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের দায়িত্ব শুধু প্রকল্প চালু করা নয়, সেই প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিকভাবে দুর্বল এবং প্রকৃত প্রাপকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সহায়তা দেওয়া হবে, যার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে।

প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে সরকার আধুনিক তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সরকারের উদ্দেশ্য কোনও প্রকল্প বন্ধ করা নয়, বরং সরকারি সহায়তা আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা; কারণ যাঁদের প্রয়োজন নেই তাঁদের অনুদান দিলে প্রকৃত অভাবীরা বঞ্চিত হন। এই প্রকল্পে ‘সকলের জন্য’ নয়, বরং ‘যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁদের জন্য’—এই নীতিকেই সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিধানসভায় অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ এই বক্তব্যের সমালোচনা করলেও সরকার নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সরকারের দাবি, এই নীতি অনুসরণ করলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও পিছিয়ে থাকা মানুষকে সরাসরি উপকৃত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *