রাজ্যে ক্ষমতা বদল হতেই অশান্তির অভিযোগ, গুজব রুখতে কঠোর কলকাতা পুলিশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে বাংলায় নতুন সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। হেভিওয়েট কেন্দ্র ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং ক্ষমতার এই বড় রদবদলের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও ভাঙচুরের খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে গুজব ও ভুয়ো খবর রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা পুলিশ।
গুজব রুখতে পুলিশের ‘ডিজিটাল’ নজরদারি
নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হতে শুরু করেছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙচুর এবং হিংসাত্মক কার্যকলাপের দাবি করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের দাবি, এর মধ্যে অনেক ছবি ও ভিডিও পুরনো অথবা অন্য কোনো জায়গার, যা কলকাতার নাম করে চালিয়ে জনমানসে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে এই বিষয়ে একটি কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
-
কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এবং স্বাভাবিক রয়েছে।
-
বিভ্রান্তিকর পোস্ট বা অন্য জায়গার ভিডিও যারা ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
-
যাচাই না করে কোনো উস্কানিমূলক খবর শেয়ার করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোতায়েন ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
ভোট-পরবর্তী হিংসার আশঙ্কায় নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অশান্তির খবর পেলেই সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।
ভবানীপুরের ফলাফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৬-এর এই নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে এক বড় মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। নিজের গড় হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অভাবনীয় ফলের পরেই সমর্থকদের মধ্যে আবেগ ও উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও জয়ের উল্লাস, আবার কোথাও কার্যালয় ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে।
লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের উস্কানিতে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
