মোদী-বিরোধী কৌশল সাজাতে সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মেগা বৈঠক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়া দিল্লি: কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে রণকৌশল সাজাতে এবং জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটল মেরামত করতে ফের একবার বৈঠকে বসতে চলেছে বিরোধী শিবির। আগামীকাল সোমবার দেশের রাজধানী নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সোমবারের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেশের মোট ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নিতে চলেছে। ‘এক্স’-এ একটি দীর্ঘ পোস্ট করে জয়রাম রমেশ দাবি করেন, মোদী সরকারের একনায়কতন্ত্র ও জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সমমনোভাবাপন্ন দলগুলি আবার একমঞ্চে জড়ো হচ্ছে। লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, আকাশছোঁয়া বেকারত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর আঘাতের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলি নিয়ে জোটের শরিকরা এককাট্টা রয়েছে।
রাজ্যে পরাজয়ের পর প্রথম দিল্লি সফরে মমতা:
সোমবারের এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত থাকতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য রাজনীতি এবং দিল্লির অলিন্দে তাঁর এই সফরকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূলের নজিরবিহীন ধাক্কার পর জাতীয় স্তরে এটাই হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ধাক্কা সামলে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের ও দলের প্রাসঙ্গিকতা এবং গুরুত্ব বজায় রাখতেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। জোটের অন্দরে তৃণমূলের অবস্থান কোন দিকে ঘোরে, সেদিকে নজর থাকবে সবার।
কংগ্রেসের ওপর চটে বৈঠক বয়কট স্ট্যালিনের দলের!
২৩টি দল এই বৈঠকে যোগ দিয়ে বিরোধী ঐক্যকে পোক্ত করার বার্তা দিলেও, জোটের অন্দরের ফাটল কিন্তু পুরোপুরি ঢাকা যাচ্ছে না। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রধান শরিক তামিলনাড়ুর দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (DMK) এই বৈঠক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চেন্নাই সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুর নির্বাচন মেটার পর সে রাজ্যে সুপারস্টার থালাপথি বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (TVK)-কে সমর্থন করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না স্ট্যালিনের দল। ঘরের মাঠে কংগ্রেসের এই ডিএমকে-বিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদ জানাতেই দিল্লির বৈঠক থেকে নিজেদের দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ ভারতের এই শাসক দল।
ক্ষোভ সরিয়ে বৈঠকে থাকছে সিপিআই(এম):
ডিএমকে যখন ক্ষোভে বৈঠক এড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থান নিয়েছে সিপিআই(এম)। কেরল নির্বাচনের সময় কংগ্রেস ও বামেদের মধ্যে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে এবং মোদী বিরোধিতার প্রশ্নে সোমবারের বৈঠকে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব। দলের তরফে রাজ্যসভার প্রভাবশালী সাংসদ জন ব্রিটাস (John Brittas) এই বৈঠকে সিপিআই(এম)-এর প্রতিনিধিত্ব করবেন।
নজরে সোমবারের দিল্লির রাজপথ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলির পর যখন জাতীয় স্তরে মোদী সরকারের রাজনৈতিক দাপট ও আধিপত্য অনেকটাই বেড়েছে, ঠিক তখনই এই বৈঠকের ডাক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে কংগ্রেসের আসন রফা ও সম্পর্কের টানাপড়েন মেটানো, আর অন্যদিকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে মোদী সরকারকে যৌথভাবে চেপে ধরতে এক সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্ট বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করাই সোমবারের কনস্টিটিউশন ক্লাবের এই বৈঠকের আসল লক্ষ্য। তামিলনাড়ুর ক্ষোভ আর বাংলার ক্ষতে প্রলেপ লাগিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোট আগামী দিনে কতটা সফল হয়, সেইদিকেই চোখ থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
