High Court-Railway Hawkers : রেলের হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের, রিপোর্ট তলব বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রেলের হকার উচ্ছেদে বড়সড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বালিগঞ্জ, ডানকুনি, বারুইপুর, বনগাঁ, যাদবপুরসহ একাধিক রেল স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদের নোটিসের ওপর আগামী জুন মাস পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল উচ্চ আদালত। আদালত সাফ জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ নতুন করে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারবে না। একই সাথে, যাদের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে, তাদেরও উচ্ছেদ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে রেলের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য।
”জীবিকার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না”, সওয়াল বিকাশ ভট্টাচার্যের
মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে জোরালো সওয়াল করে বলেন, “যেভাবে বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাতে মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। কেন্দ্র বা রাজ্য—কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।” তিনি আরও যুক্তি দেন যে, ঠেলাগাড়ি বা ঝুপড়ি দোকান করে হাজার হাজার গরিব পরিবার কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছে। রাষ্ট্র তাদের সাথে শত্রুর মতো আচরণ করতে পারে না।
আদালতে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আইনজীবী ভট্টাচার্য বলেন, “যখন কেউ রেলের জমিতে বসছেন, তখন বাধা না দিয়ে ২-৩ দশক পর হঠাৎ উচ্ছেদ করা যায় না।” উচ্ছেদের আতঙ্কে হকাররা যে প্রতি রাতে এলাকা পাহারা দিচ্ছেন, সে কথাও তিনি আদালতকে জানান।
নোটিসে সই-তারিখ নেই, দাবি ফিরদৌস শামিমের
অন্যান্য মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম অভিযোগ করেন, বহু ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, বারুইপুরে ১৯৯৫ সাল থেকে লাইসেন্স পাওয়া ৪০টি পরিবারকে এবং ডানকুনিতে ৩২টি পরিবারকে নোটিস দেওয়া হয়েছে, যে নোটিসে কোনো তারিখ বা সই পর্যন্ত নেই।
পালটা যুক্তি রেলের আইনজীবীর
রেলের পক্ষে আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেন, ১৮৮১ সালে ওই জমির ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছিল, যা আজ পর্যন্ত কেউ জমা দেয়নি। পাশাপাশি, রেলযাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই প্ল্যাটফর্ম ও রেলের রাস্তা থেকে এই উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
রিপোর্ট তলব আদালতের
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, রেলের জায়গা বা প্ল্যাটফর্ম দখল হয়ে গেলে রেল কি ব্যবস্থা নেবে না? তবে বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও কাউকে উচ্ছেদ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রেলের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত বন্ধ থাকছে উচ্ছেদ অভিযান।
