আজকের দিনেবাংলার আয়না

বিনামূল্যে চিকিৎসার আড়ালে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ লুটের ছক? পারমাণবিক শক্তি আইনে মামলা, তীব্র অস্বস্তিতে অভিষেক!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ডায়মন্ড হারবার: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে এবার দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। দরিদ্র মানুষের নিখরচায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পে ‘লাগামছাড়া দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলে এবার ডায়মন্ড হারবার থানার দ্বারস্থ হলেন রায়নাগরের বাসিন্দা সুকদেব দাস। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-সহ একাধিক কড়া আইনি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

এর আগে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি এই নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এবার সুকদেব দাসের নতুন অভিযোগের পর ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

কী কী ধারায় মামলা রুজু হলো?

অভিযোগকারীর দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠোর কিছু ধারায় মামলা দায়ের করেছে। যার মধ্যে রয়েছে:

  • ভারতীয় ন্যায় সংহিতা : প্রতারণা ও জালিয়াতির ধারা।

  • পারমাণবিক শক্তি আইন : বেআইনিভাবে তেজস্ক্রিয় বা পারমাণবিক প্রযুক্তি/যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভিযোগ।

  • ওষুধ ও প্রসাধনী আইন 

  • জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন আইন 

  • পিসিপিএনডিটি আইন ): গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বিরোধী আইন।

  • পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইন

কী অভিযোগ সুকদেব দাসের?

অভিযোগকারীর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই এই চিকিৎসাকেন্দ্র বা ক্যাম্পগুলি পরিচালনা করতেন। হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে আধুনিক চিকিৎসা করানো, বেআইনিভাবে ওষুধ দেওয়া এবং উপযুক্ত লাইসেন্স ছাড়া জটিল রোগনির্ণয়ের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

‘বিনামূল্যে’ চিকিৎসার আড়ালে কীভাবে চলত কোটি কোটি টাকার খেলা?

সেবাশ্রয় ক্যাম্পের এক চিকিৎসকের বিস্ফোরক বয়ানে উঠে এসেছে এই দুর্নীতির পেছনের আসল ছক। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে এই চিকিৎসা সম্পূর্ণ ‘বিনামূল্যে’ মনে হলেও, ঘুরপথে রোগীদের থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।

দুর্নীতির মোডাস অপারেন্ডি : ১. ক্যাম্পে আসা রোগীদের চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান-এর মতো দামি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতেন। যেহেতু এই পরীক্ষাগুলো সরাসরি ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের আওতায় পড়ে না, তাই রোগীরা সমস্যায় পড়তেন। ২. প্রেসক্রিপশন হওয়া মাত্রই মাঠে নামতেন সেবাশ্রয়ের সাথে যুক্ত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগের কর্মীরা। ৩. রোগীদের বুঝিয়ে বা ভয় দেখিয়ে সেইসব হাসপাতালে ভর্তি করা হতো। সামান্য হাঁটু ব্যথা বা ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদেরও ১০-১২ দিন হাসপাতালে শুইয়ে রাখা হতো। ৪. এর ফলে চড়চড়িয়ে বাড়ত হাসপাতালের বিল। আর সেই বিপুল পরিমাণ বিলের টাকা মেটানো হতো সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ফান্ড থেকে। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের এই কোটি কোটি টাকা ঘুরপথে চলে যেত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সাগরেদদের পকেটে।

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে প্রথম ৭৫ দিনের জন্য এই স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’ শুরু হয়। পরবর্তীতে নন্দীগ্রামসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এর বিস্তার ঘটায় রাজনৈতিকভাবে অভিষেকের ভাবমূর্তি ‘হিরো’র মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন সেই প্রকল্প ঘিরেই জালিয়াতি ও দুর্নীতির একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি অস্বস্তিতে পড়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *