বাহুবলী থেকে থলাইভা: গ্ল্যামারের আড়ালে গোপন ব্যাধিতে জর্জরিত দক্ষিণী তারকারা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বিনোদন ডেস্ক:- বাইরে থেকে তাঁদের জীবন যতটা ঝলমলে, পর্দার আড়ালে বাস্তবটা হয়তো ততটাই কঠিন। দক্ষিণের বেশ কয়েকজন মেগাস্টার বক্স অফিসে ঝড় তুললেও, ব্যক্তিগত জীবনে তাঁরা লড়ছেন এমন কিছু বিরল ও জটিল রোগের সঙ্গে, যা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। শারীরিক অসুস্থতাকে জয় করেই তাঁরা ক্যামেরার সামনে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন। জানেন কি তারকাদের আড়ালের সেই কঠিন লড়াইয়ের গল্প….
রানা দগ্গুবতী: হার্ট ও কিডনির জটিল সমস্যা
‘বাহুবলী’ খ্যাত রানা দগ্গুবতীকে দেখে ফিটনেসের প্রতীক মনে হলেও, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কিডনির জটিল রোগে ভুগেছেন। সমস্যা এতটাই গুরুতর রূপ নিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। এখানেই শেষ নয়, রানার একটি জটিল জিনগত হার্টের রোগও রয়েছে, যার কারণে রক্তচাপের মারাত্মক ওঠানামা হয় এবং চিকিৎসকদের মতে তাঁর ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ। এ ছাড়া, শৈশবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের ত্রুটির কারণে তিনি ডান চোখে দেখতে পান না।
রজনীকান্ত: হৃদরোগ ও অ্যানিউরিজ়ম
পর্দায় খলনায়কদের অনায়াসে কুপোকাত করা এই মেগাস্টারকে একসময় কাবু করেছিল হৃদরোগ। ধমনীতে ব্লকেজ ধরা পড়ায় থলাইভারের ‘ক্যারোটিড আর্টারি রিভাস্কুলারাইজ়েশন’ অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এ ছাড়া তিনি ‘অ্যায়োর্টিক অ্যানিউরিজ়ম’ (ধমনীর দুর্বলতার কারণে রক্ত জমে বেলুনের মতো ফুলে যাওয়া) সমস্যাতেও ভুগেছেন। বর্তমানে হার্ট ভালো রাখতে তিনি কঠোর ডায়েট ও নিয়মিত শারীরচর্চা মেনে চলেন।
সমান্থা রুথ প্রভু: মায়োসাইটিস
জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ‘মায়োসাইটিস’ নামক একটি বিরল অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজেরই সুস্থ পেশিকে আক্রমণ করে। ফলে পেশি মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ে, রোগী দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে ক্লান্ত হয়ে যান, এমনকি হঠাৎ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। সমান্থা দীর্ঘদিন ধরে এই রোগের কারণে শ্বাসকষ্ট এবং হাত-পায়ের দুর্বলতায় ভুগেছেন, যার ফলে তাঁর হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অনুষ্কা শেট্টি: সিউডোবালবার এফেক্ট (লাফিং ডিজিজ)
অনুষ্কা শেট্টির রোগটি বেশ অদ্ভুত ও বিরল, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘সিউডোবালবার এফেক্ট’ বা লাফিং ডিজিজ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ হাসতে বা কাঁদতে শুরু করলে সহজে তা থামাতে পারেন না। একবার একটি কমেডি সিনেমার শুটিংয়ের সময় অনুষ্কা হাসা শুরু করলে আর থামতেই পারছিলেন না। তাঁর এই সমস্যার কারণে প্রায়ই শুটিং বন্ধ করে সবাইকে বিরতি দিতে হয়।
কাজল অগ্রবাল: ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজ়মা ও অটোইমিউন রোগ
রূপালী পর্দার অন্যতম সুন্দরী এই অভিনেত্রী মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে ‘ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজ়মা’ বা তীব্র হাঁপানির সমস্যায় ভুগছেন। হাঁপানির টান এতটাই প্রবল যে, সুরক্ষার জন্য সবসময় ব্যাগে ইনহেলার রাখতে হয় তাঁকে। এর পাশাপাশি কাজল কিছুদিনের জন্য একটি অটোইমিউন রোগেও ভুগেছিলেন, যা অবশ্য চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিষ্ণু বিশাল: তীব্র পেশির ক্লান্তি ও অটোইমিউন রোগ
তামিল অভিনেতা বিষ্ণু বিশাল গত ৩-৪ বছর ধরে একটি অটোইমিউন রোগে ভুগছেন। এই রোগের কারণে তাঁর পেশিতে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, শরীর ও মুখ ফুলে যাওয়া এবং মনঃসংযোগের অভাব দেখা দেয়। মাঝে মাঝে হাত-পা অসাড় হয়ে যাওয়া এবং পেটের সমস্যাও লেগেই থাকে। বর্তমানে এই রোগের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অস্বস্তি ও ক্লান্তি আরও বেড়ে গেছে।
মমতা মোহনদাস: ক্যানসার ও শ্বেতি (ভিটিলিগো)
অভিনেত্রী মমতা মোহনদাস দু-দুবার রক্তের বিরল ক্যানসার ‘হজকিন্স লিম্ফোমা’র মুখোমুখি হয়ে তা জয় করেছেন। তবে ক্যানসার জয় করার পর তিনি ‘ভিটিলিগো’ বা শ্বেতি রোগে আক্রান্ত হন। এটিও একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত ত্বকের রঙ তৈরিকারী ‘মেলানোসাইট’ কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ত্বকে সাদাটে ছোপ দেখা দেয়।
রাম চরণ: শৈশবের ডিসলেক্সিয়া
আজকের সুঠাম ও সুদর্শন অভিনেতা রাম চরণের বর্তমানে বড় কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকলেও, ছোটবেলায় তিনি ‘ডিসলেক্সিয়া’ নামক একটি লার্নিং ডিজঅর্ডারে ভুগতেন। এটি এমন এক ধরনের মানসিক অবস্থা যা শিশুদের তথ্য বোঝার বা উপলব্ধি করার ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, যার ফলে অক্ষর চিনতে, পড়তে কিংবা লিখতে বেশ বেগ পেতে হতো এই অভিনেতাকে।
উপসংহার: পর্দার এই নায়ক-নায়িকারা প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে শরীরের যেকোনো প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।
